হেরে গেল মোহামেডান

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: আবাহনীর বিপক্ষে ঢাকা মোহামেডান, হোক সেটা চট্টগ্রাম আবাহনী। দর্শকদের স্বাভাবিকভাবেই ছিলো বাড়তি প্রত্যাশা। কিন্তু সমর্থকদের হতাশ করলো সাদাকালোরা। অন্যদিকে জয়ের উচ্ছাসে মেতেছে আবাহনী সমর্থকরা।

শুক্রবার মোহামেডানকে প্রথম হারের স্বাদ দিল চট্টগ্রাম আবাহনী। চেনা মাঠে, চেনা দর্শকের সামনে রুবেল হোসেন, লিওনেল সেইন্ট প্রিয়াক্স ও জাহিদ হোসেনের হাত ধরে মোহামেডানকে ৪-২ গোল হারিয়েছে ইউসেফ পাভলিকের দল।

রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটির সঙ্গে ড্র করে আসা মোহামেডানের এটি প্রথম হার। অন্যদিকে আবাহনী লিমিটেডের সঙ্গে ড্র দিয়ে লিগ শুরু করা মামুনুলদের এটি প্রথম জয়।

চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচেও নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান। একপেশে প্রথমার্ধেই দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় চট্টগ্রাম আবাহনী। শুরুর দিকে বন্দরনগরীর দলটির ফরোয়ার্ডরা সুযোগ নষ্টের মহড়া না দিলে বিরতির আগে ব্যবধান আরও বড় হতো।

২২তম মিনিটে রুবেল মিয়ার বাড়ানো বলে প্রিয়াক্সের শট লক্ষ্যে থাকেনি। সাত মিনিট পর বক্সের বাইরে ফাউলের শিকার হন প্রিয়াক্স; ফ্রি কিকের সুযোগটি উড়িয়ে মেরে নষ্ট করেন হাইতির এই ফরোয়ার্ড।

৪১তম মিনিটে ইয়ামিন-প্রিয়াক্স-রুবেলের মিলিত আক্রমণে অবশেষে গোলের দেখা পায় চট্টগ্রাম আবাহনী। বাঁ দিক থেকে ইয়ামিন মুন্নার ক্রসে প্রিয়াক্স মাথা ছোঁয়ানোর পর গোলমুখে থাকা রুবেল অনেকটা নিচু হয়ে হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন। লিগে এটি রুবেলের দ্বিতীয় গোল। আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে ম্যাচেও বদলি নেমে লক্ষ্যভেদ করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় মৌসুম শুরুর টুর্নামেন্ট স্বাধীনতা কাপ জেতা চট্টগ্রামের দলটি। সতীর্থের বল ধরে আক্রমণে যাওয়া প্রিয়াক্সকে আটকাতে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন গোলরক্ষক মোহাম্মদ নেহাল। পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হাইতির এই ফরোয়ার্ড।

প্রথমার্ধের মলিনতা দ্বিতীয়ার্ধেও কাটিয়ে উঠতে পারেনি মোহামেডান। মামুনুল ইসলাম-তারিক আল জানাবির মুঠো থেকে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিতে পারেনি জসিমউদ্দিন জোসির শিষ্যরা। ইসমাইল বাঙ্গুরাদের আক্রমণও তাই ধারালো হয়ে ওঠেনি।

৫১তম মিনিটে লিগে নিজেদের প্রথম জয় অনেকটাই নিশ্চিত করে নেয় চট্টগ্রাম আবাহনী। সোহেল রানার বাড়ানো বল ধরে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রুবেল। ৩ গোল নিয়ে এ মুহূর্তে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা চট্টগ্রাম আবাহনীর এই ফরোয়ার্ড।

প্রতিপক্ষের ঢিলেমির সুযোগ নিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় মোহামেডান। ৭৫তম মিনিটে নিখুঁত প্লেসিং শটে স্কোরলাইন ৩-১ করেন ফরোয়ার্ড আমিনুর রহমান সজীব।

মোহামেডানের ম্যাচে ফেরার আশা শেষ করে দেন রুবেলের বদলি হিসেবে নামা জাহিদ হোসেন। ৮৯তম মিনিটে মামুনুল ইসলামের শট নেহাল ফেরানোর পর ঠাণ্ডা মাথায় ফিরতি শটে লক্ষ্যভেদ করেন বদলি নামা এই ফরোয়ার্ড। লিগে জাহিদের এটি প্রথম গোল।

যোগ করা সময়ে গোলরক্ষককে দেওয়া চট্টগ্রাম আবাহনীর ইয়ামিনের ব্যক পাস দ্রুত দৌড়ে এসে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আব্দুল মালেক মোহামেডানকে দ্বিতীয় গোল এনে দেন। তাতে অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি জসিমউদ্দিন জোসির দলের।

দিনের প্রথম ম্যাচে জুয়েল রানার একমাত্র গোলে ফেনী সকারকে হারিয়েছে আবাহনী লিমিটেড।

বেস্ট বায়োস্কোপ স্পোর্টস
৩০ জুলাই ২০১৬

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: