ফুটবলের ‘সেই’ কালো দিন

ফুটবলের ‘সেই’ কালো দিন ২১ সে্প্টেম্বর।  তুখোড় ফর্মে থাকা কাজী সালাহউদ্দিনের হাতে হ্যান্ডকাফ, দড়ি দিয়ে বাঁধা। পাশে বসা আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু, গোলাম রাব্বানী হেলাল ও আনোয়ার হোসেনের অবস্থাও তা-ই; দৃশ্যটা হালে মানা যেত! কিন্তু ফুটবলের স্বর্ণ যুগে! তবে ঘটেছিল।

১৯৮২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর খেলার মাঠ থেকে কারাগারে যেতে হয়েছিল আবাহনীর ১৪ ফুটবলারকে! পুলিশ পরের দিন সকালে আট ফুটবলারকে ছেড়ে দিলেও বিভিন্ন মেয়াদে জেল খাটতে হয়েছিল উপরোক্ত চারজনকে।

সিনিয়র ডিভিশন লিগের শেষ খেলায় মোহামেডানের বিপক্ষে মহাযুদ্ধের অন্তিম মুহূর্তে আবাহনী অধিনায়ক আনোয়ার হোসেনের নেয়া কর্নার শটের বল গোলরেখা অতিক্রম করে। কিন্তু মোহামেডানের গোলরক্ষক মোঃ মোহসিন হাত দিয়ে বল ফিরিয়ে দেন। আবাহনী ফুটবলাররা গোল দাবি জানালেও রেফারি আবদুল আজিজ বাতিল করেন। আকাশি-হলুদ ফুটবলাররা উত্তেজিত হয়ে মারধর করেন সহকারী রেফারি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে।

খেলার মাঠের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের বাইরেও। সমর্থকরা ভাংচুর করেন স্টেডিয়ামের ভেতরে ও বাইরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ করে। ঘটনা সেখানেই শেষ হয়নি! সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, রেফারি লাঞ্ছিত, জনসম্পত্তি বিনষ্ট ও উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগে রাতে আবাহনীর দুই শ্রীলঙ্কান পাকির আলী ও অশোকাসহ ১৪ ফুটবলারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে রমনা থানা পুলিশ। তখন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের হোস্টেলে ছিল জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্প; রাতেই ক্যাম্পে থাকা ১২ ফুটবলারকে গ্রেফতার করে রমনা থানায় নেয়া হয়। আবাহনী টেন্ট থেকে গ্রেফতার করা হয় শ্রীলঙ্কান পাকির আলী ও অশোকাকে। পরের দিন তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান শ্রীলঙ্কান দূতাবাসের কর্মকর্তারা, অন্যদের বাকিদের পাঠানো হয় আদালতে।

সালাহউদ্দিন, হেলাল, চুন্নু, আনোয়ারকে দোষী সাব্যস্ত করলেও অন্যদের খালাস দেন আদালত। অধিনায়ক আনোয়ার ও হেলালকে ৬ এবং তারকা সালাহউদ্দিন ও চুন্নুকে ৩ মাসের কারাদ- দেয়া হয়। আনোয়ার ও হেলালকে পাঠানো হয় রাজশাহী কারাগারে, চুন্নু ও সালাহউদ্দিনকে যশোরে। তবে সাধারণ ক্ষমায় ১৭ দিন জেল খেটে মুক্তি পান ফুটবলাররা। ঘটনাবহুল ওই ম্যাচ ১-০ গোলে জিতে লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মোহামেডান। তবে ফুটবলাঙ্গনে দিনটি পরিচিত ‘কালো দিন’ নামে। ক্যালেন্ডার মেনে ৩৪ বছর পর আজ আবার ফিরে এলো ‘ফুটবলের কালো’ এ দিনটি। ফুটবলাঙ্গনে এখন আর ওই দিনটি নিয়ে আলোচনা হয় না, কথা বলতে আগ্রহ বোধ করেন না সালাহউদ্দিন, চুন্নু ও হেলালরা।

লেখা সংগ্রহ- ‘আলোকিত বাংলাদেশ’ পত্রিকা ছবি- ‘গোল বাংলাদেশ’

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: