পঞ্চাশ পেরিয়ে এখনো সতেজ যেসব কার্টুন

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: কার্টুন ভালোবাসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। শৈশব কেটেছে কার্টুন দেখে, অনেক সময় স্বপ্নেও ধরা দিত চরিত্রগুলো। এখন সন্তানের সঙ্গে একই কার্টুন চরিত্রের দুষ্টুমি, মজা উপভোগ করতে করতে ক্ষণিকের জন্য ফিরে যাওয়া ছেলেবেলায়। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু পাল্টে যায়। কিন্তু কিছু কার্টুন চরিত্রের জনপ্রিয়তা আগের মতোই। কালের বিবর্তনেও ছেলেবুড়ো সবাইকে একইভাবে আনন্দ দিয়ে যাচ্ছে চরিত্রগুলো। দেখুন অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও এখনো যেসব কার্টুন তাদের জনপ্রিয়তা অটুট রেখেছে।

মিকি মাউস


বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র মিকি মাউস। ১৯২৮ সালের ১৮ নভেম্বর ডিজনির এ চরিত্রের জন্ম। এখনো তার জনপ্রিয়তায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। মিকি মাউস শুধু দেখতেই নয়, ছোটরা আঁকতেও খুব ভালোবাসে। লাল প্যান্ট ও পায়ে হলুদ বুট পরা মিকির একজন প্রেমিকাও রয়েছে, মিনি মাউস। জন্ম ওই একই দিনে। প্রথমে এ প্রেমিকযুগল কথা বলত এদের স্রষ্টা ওয়াল্ট ডিজনির কণ্ঠস্বর ধার করে। তারপর মিকি কণ্ঠ মেলাত কার্ল স্ট্যালিংয়ের সঙ্গে। মিনির জন্য বেছে নেয়া হয় মার্সেলিট গার্নারকে।

গুফি

মিকির আরেক বন্ধু গুফির আগমনও কার্টুন ইতিহাসের শুরুর দিকেই। বোকা হাঁসি হেসে সবার মন জয় করেছে এ কুকুর। স্রষ্টা ওয়াল্ট ডিজনি। ‘মিকিজ রিভিউ’-এ আত্মপ্রকাশ গুফির। ১৯৩২ সালে। সে হিসাবে এখন তার বয়স ৮৩ বছর। তা হলে কী হবে! এখনো বোকাসোকা কুকুরটি সমানতালে তার কাজ করে চলেছে।

টিনটিন


‘ল প্যতি ভাঁতিয়েম’ থেকে অভিযান শুরু টিনটিনের। ১৯২৯ সালে। এর পর থামার নামটি নেই। চলছে তো চলছেই…। স্রষ্টা হার্জের প্রয়াণ হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু এ সাংবাদিক গোয়েন্দা এখনো স্বমহিমায় বিরাজমান। সঙ্গে অবশ্য প্রফেসর ক্যালকুলাস আর ক্যাপ্টেন হ্যাডকও রয়েছে। কুকুর কুট্টুসকে বাদ দিলে চলবে না। সম্প্রতি হলিউডে তাকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হয় বিখ্যাত পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গের পরিচালনায়।

ডোনাল্ড ডাক


মিকি মাউসের বন্ধু ডোনাল্ড ডাক তো সবার চেনা। ১৯৩৪ সালে ওয়াল্ট ডিজনি থেকে প্রকাশিত এ চরিত্র। সে যে কী কথা বলে, বোঝে কার সাধ্য! ক্লারেন্স ন্যাশ আর চোনি অ্যানসেলমোর কণ্ঠস্বর তাকে আরো বিখ্যাত করেছে। ‘দ্য ওয়াইজ লিটল হেন’ দিয়ে কার্টুন জগতে প্রবেশ ডোনাল্ডের। তখন কার্টুন দুনিয়ায় সেই একমাত্র হাঁস। তার পর আসে ডেইজি। তবে লুনি টিউনসের ডেফির কথা না বললে অসম্পূর্ণই থেকে যাবে হাঁসনামা।

হুই ডুই লুই

আঙ্কেল স্ক্রজ ম্যাকডাকের মাধ্যমে এ তিন চরিত্র সবাই চিনলেও তাদের আগমন কিন্তু অনেক আগে। ডেইজির দুই বছর আগে ডোনাল্ডের সঙ্গে যোগ দেয় হুই, ডুই, লুই। ডোনাল্ডের দুষ্টু ভাইপো তারা। ডোনাল্ডের সঙ্গে তাদের বয়সও ৮০ হতে চলল। অথচ এখনো উচ্ছল তারা।

টম অ্যান্ড জেরি


বর্তমান বিশ্বে কার্টুন চরিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় দুটি চরিত্র টম ও জেরি। হাস্যকর, মজাদার এবং জমজমাট এ কার্টুনটির কথা শুনলে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আর ছোটদের তো কথাই নেই! টম অ্যান্ড জেরি দেখতে দেখতে কখন চোখ গোল হয়ে যায়, খেয়ালই থাকে না! ইঁদুর-বিড়ালের বিভিন্ন মজাদার কাহিনী নিয়ে টম অ্যান্ড জেরি কার্টুনটি তৈরি শুরু হয় ১৯৪০ সালে।

টুইটি (৭৩)


লুনি টিউনসের এ চরিত্রই সবচেয়ে পুরনো। ‘আ টেল অব টু কিড’-এ প্রথম দেখা মেলে টুইটির। মিষ্টি এ পাখি দর্শকের মন জয় করতে খুব বেশি সময় লাগেনি। সবসময়ই সে তটস্থ থাকে বিড়াল সিলভেস্টারের আক্রমণে। অনেকটা টম অ্যান্ড জেরির মতোই। চলতে থাকে তাদের খেলা। সিলভেস্টার চরিত্রটিও বেশ জনপ্রিয়।

স্ক্রুজ ম্যাকডাক


কার্টুন জগতে যে কয়টি হাঁসের চরিত্র রয়েছে, তার মধ্যে স্ক্রুজের বয়স খানিকটা বেশি। ৬৮ বছর। তবে ফ্ল্যাশব্যাকে অনেকবার সে নিজের যৌবনকে মনে করেছে। যৌবনে ‘গোল্ডি’ নামে একজন স্মার্ট সুন্দরী গার্লফ্রেন্ড ছিল তা অনেকবারই বলেছে বৃদ্ধ স্ক্রুজ। ফোর্বসের তালিকা অনুযায়ী, স্ক্রুজ ম্যাকডাক শীর্ষ ধনী কাল্পনিক চরিত্র।

বাগস বানি

১৯৪৪ সালে বাগস বানির যাত্রা শুরু। লুনি টুনস আর মেরি মেলোডিসের একটা স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। তখন মুখাবয়বটা ছিল ভিন্ন। এ সময় তাকে সবাই চিনত হ্যাপি র্যাবিট নামে। আর দেখতে ছিল অনেকটা ধেঁড়ে ইঁদুরের মতো। বাগস বানির পর্দায় অভিষেক হয় ‘পরকিজ হেয়ার হান্ট’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে। এটি বানানোর সময় কার্টুনটির অ্যানিমেটর বেন হার্ডাওয়ে যে মডেল সিটে কার্টুনটা এঁকেছিলেন, তার মধ্যে লিখেছিলেন বাগস বানি। সেই থেকে কার্টুন সিরিজটাই এ নামে প্রচার হতে থাকে।

স্কুবি ডু

কার্টুন বিশ্বে স্কুবি ডুর আগমন হানা-বারবেরার হাত ধরে। ১৯৬৯ সালে ছোট পর্দার জন্যই এ কার্টুন সিরিজ তৈরি করে উইলিয়া হানা ও জোসেফ বারবেরা প্রডাকশন। সবসময় ভীতসন্ত্রস্ত থাকা স্কুবি খেতে খুব ভালোবাসে। বন্ধু শ্যাগির সঙ্গে আজব সব ঝামেলা পাকিয়ে, বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার হাস্যকর সব উপায় বের করাই তার কাজ। মিস্ট্রি ভ্যনের গোয়েন্দা দলের সব অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত স্কুবির হাত ধরেই সমাধা হয়।

বেস্ট বায়োস্কোপ কমিকস
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৬

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: