হেরেই গেল টাইগাররা

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল আফগানিস্তান। প্রথম ম্যাচে ৭ রানে হেরে যাওয়ার পর বুধবার মিরপুরে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ২ উইকেটে হারিয়েছে সফরকারী আফগানিস্তান। জয়ের জন্য বাংলাদেশের দেয়া ২০৯ রানের খেলতে নেমে ২ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আফগান ইনিংস। বল হাতে চার উইকেট নিলেও আফগানদের জয়টা থামাতে পারেননি সাকিব আল হাসান।

অল্প রানের পুঁজিতে আফগানদের আটকে রাখতে পারেনি মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ২ উইকেটে হেরে গেছে টাইগাররা। ৪৯.৪ বলে ৮ উইকেটে ২১২ রান তুলে নেয় সফরকারীরা।

আগের ম্যাচে শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আফগানদের জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল বাংলাদেশ। শেষ ওভারে গড়ানো দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তা আর হয়নি। স্পিনারদের দারুণ বোলিংয়ে স্বাগতিকদের কম রানে বেধে রাখার পর আসগর স্তানিকজাই ও মোহাম্মদ নবির দারুণ ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঠিকই জিতেছে আফগানিস্তান। তৃতীয় স্পেলে ফিরেই আঘাত হানেন মোসাদ্দেক হোসেন। তার বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে সব্বির রহমানের ক্যাচে পরিণত হন আফগান অধিনায়ক আসগর স্তনিকজাই (৯৫ বলে ৫৭)। দ্রুত চার উইকেট হারানো আফগানিস্তান প্রতিরোধ গড়ে আসগর স্তানিকজাই ও মোহাম্মদ নবির অর্ধশত রানের জুটিতে। বিপজ্জনক মোহাম্মদ শাহজাদকে (৩৫ বলে ৩৫) ফেরান সাকিব আল হাসান। তার বলে পয়েন্টে ক্যাচ নেন তাসকিন আহমেদ। মোসাদ্দেক হোসেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম বলেই উইকেট নিয়েছেন। এই অফস্পিন অলরাউন্ডার ফিরিয়েছেন হাশমতুল্লাহ শাহিদিকে।

সাকিব আল হাসানের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম দুই বলে দুটি চার হাঁকান নওরোজ মঙ্গল। তবে শেষ হাসি বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারেরই। তার সেই ওভারেই কাভারে তাইজুল ইসলামকে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান মঙ্গল। আর শেষ বলে এলবিডব্লিউ হন আগের ম্যাচে প্রতিরোধ গড়া রহমত শাহ। আফগানিস্তানের বিপে দ্বিতীয় ওভারেই ‘ট্রাম্প কার্ড’ সাকিব আল হাসানকে আক্রমণে আনেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

এর আগে স্পিনারদের সামলাতে না পেরে বিপদে পড়া বাংলাদেশ মোসাদ্দেক হোসেনের দৃঢ়তাভরা ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানকে ২০৯ রানের ল্য দেয়। ব্যাট করতে নেমে প্রথম তিন ওভারে মাত্র ৬ রান করলেও কোনো উইকেট হারায়নি সফরকারী দলটি। তবে সাকিবের দ্বিতীয় ওভারেই বদলে যায় ম্যাচের চেহারা।

দলীয় চতুর্থ ওভারে আফগান ওপেনার নওরোজ মঙ্গলকে ফিরিয়ে দিয়ে টাইগার শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছেন বিশ্ব সেরা এই অলরাউন্ডার। সেই ওভারে সাকিবকে দুটি চার মারেন মঙ্গল। এর পরের বলেই আগের ম্যাচে আফগানদের টেনে তোলা রহমত শাহকে কোনো রান করার আগেই লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন সাকিব। এরপর শেহজাদকে নিয়ে ৪৫ রানের জুটি বাধেন হাসমতউল্লাহ শাহিদি। ১৪তম ওভারে সৈকতের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক মাশরাফি। প্রথম বলেই শাহিদিকে লেগ বিফোরের ফাদে ফেলেন তরুণ সৈকত।

এরপর ১৬তম ওভারে বাংলাদেশের কাঁটা হয়ে থাকা মোহাম্মদ শেহজাদকে ফিরিয়ে দিয়ে টাইগারদের সবচেয়ে বড় ব্রেক থ্রুটা এনে দেন সাকিব। আফগানদের রান তখন ৬৩। ৩৫ বলে চারটি চার ও দুটি ছয়ে ৩৫ রান করেন শেহজাদ। শেহজাদ আউট হবার পর বেশ বিপদে পড়ে যায় আফগানিস্তান। তবে অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবী ও অধিনায়ক আজগর স্ট্যানিকজাই মিলে আফগান ইনিংসটাকে ভালোভাবেই সামলাচ্ছেন। পঞ্চম উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটসম্যান যোগ করেন ১০৭ রান। উইকেট নেবার জন্য সম্ভাব্য সকল চেষ্টাই করেন অধিনায়ক মাশরাফি। শেষমেষ নিজের হাতে বল তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অধিনায়কই ভাঙেন এই জুটি। মোহাম্মদ নবীকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তিনি।

৪৯ রান করেন নবী। নবী আউট হবার পর খুব বেশিণ থাকতে পারেনি অধিনায়ক আজগর স্ট্যানিকজাইও। সৈকতের বলে সাব্বিরকে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৫৭ রান করেন আফগান অধিনায়ক। তবে নজিবুল্লাহ জাদরান ও মীরওয়াইশ আশরাফের ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত জয় পায় আফগানিস্তান।

বেস্ট বায়োস্কোপ স্পোর্টস
২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: