তামিমের সেঞ্চুরিকথন

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই সেঞ্চুরি করা একমাত্র বাংলাদেশি তামিম ইকবাল। সর্বশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তিনি। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটি তার সপ্তম সেঞ্চুরি।

এই সেঞ্চুরির মধ্য দিয়েই সাকিব আল হাসানকে টপকে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এর আগে ওয়ানডে এবং টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন। টেস্টে তো রয়েছে একটি ডাবল সেঞ্চুরিও। আক্ষেপ শুধু ছিল টি-টোয়েন্টিতে। চলতি বছর ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে সেই আক্ষেপও ঘুচিয়েছেন এই টাইগার ওপেনার।

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই সেঞ্চুরি করা এই ক্রিকেটার এগিয়ে আরেক দিক থেকেও। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সবার আগে বাংলাদেশের হয়ে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তামিম।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তামিম ৮০ রান করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে শুরু হওয়ার আগে তামিম ইকবালের মোট রান ছিল ৮৯৮৫ রান (টেস্ট ৩১১৮, ওয়ানডে ৪৭১৩ ও টি-টোয়েন্টি ১১৫৪)। ওই দিন ১৫ রান যোগ হতেই মাইলফলকটা ছুঁয়ে ফেলেন তিনি।

এরপর তৃতীয় ওয়ানডেতে মোহাম্মদ নবীর বলে আউট হওয়ার আগে ১১৮ বলে খেলেছেন ১১৮ রানের ঝলমলে ইনিংস। যাতে ছিল ১১টি চার ও ২ ছক্কার মার।

সর্বশেষ গত বছর এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তামিম ইকবাল। ম্যাচটিতে তিনি অপরাজিত ছিলেন ১১৬ রানে। ১২ ইনিংস পর তিনি দেখা পেলেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারের।

তবে আরো একটি নতুন একটা মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে তামিম। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবার আগে ৫ হাজার রানের ক্লাবের সদস্য হতে যাচ্ছেন তিনি। তার কাছাকাছি আছেন কেবল একজনই, সাকিব আল হাসান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তামিমের হাফসেঞ্চুরির সংখ্যা ৩৩টি। এর মধ্যে কমপক্ষে ৮ কিংবা ১০টি সেঞ্চুরি হতে পারতো তামিমের। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি বলেই তামিমের সেঞ্চুরির সংখ্যা মাত্র ৭টি।

উল্লেখ্য, ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান তামিম ইকবালের। ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটিও তারই দখলে। টি-টোয়েন্টিতে ৫২ ম্যাচে করেছেন ১১৫৪ রান। একটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি রয়েছে ৬টি হাফসেঞ্চুরি। অন্যদিকে টেস্ট ক্রিকেটে তামিমের রান ৩১১৮। ৭ সেঞ্চুরি ও ১৮ হাফসেঞ্চুরিতে।

রান    বল   ৬/৪      বিপক্ষ          ভেন্যু        সাল

১২৯  ১৩৬      ১/১৫     আয়ারল্যান্ড       ঢাকা       ২২ মার্চ, ২০০৮

১৫৪  ১৩৮      ৬/৭       জিম্বাবুয়ে           বুলাওয়ে    ১৬ আগস্ট, ২০০৯

১২৫  ১২০        ৩/১৩    ইংল্যান্ড             ঢাকা       ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১০

১১২   ১৩৬      ১/১০     শ্রীলঙ্কা              হাম্বানটোটা  ২৩ মার্চ, ২০১৩

১৩২   ১৩৫      ৩/১৫    পাকিস্তান           ঢাকা         ১৭ মার্চ, ২০১৫

১১৬   ১১৬       ১/১৭    পাকিস্তান           ঢাকা         ১৯ মার্চ ২০১৫

১১৮   ১১৮       ২/১১    আফগানিস্তান    ঢাকা       ১ অক্টোবর ২০১৬

বেস্ট বায়োস্কোপ স্পোর্টস
৩ অক্টোবর ২০১৬

Comments

comments

One thought on “তামিমের সেঞ্চুরিকথন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: