গেইল ঝড়ে রংপুরের জয়, খুলনার বিদায়

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারকুটে ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইলের ৫১ বলে অপরাজিত ১২৬ রানের সুবাদে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টির পঞ্চম আসরের এলিমিনেটর ম্যাচে খুলনা টাইটান্সকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে রংপুর রাইডার্স। এই জয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে খেলার সুযোগ পেল রংপুর। পক্ষান্তরে এ ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলো খুলনা।

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের একমাত্র এলিমিনেটর ম্যাচে টস ভাগ্যে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেন রংপুরের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ব্যাট হাতে সাবধানী শুরু খুলনার দুই ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ও অস্ট্রেলিয়ান মাইকেল ক্লিঞ্জারের। ৩ ওভার শেষে মাত্র ১৪ রান যোগ করেন তারা। এরমধ্যে প্রথম ও তৃতীয় ওভার বল করে মাত্র ৪ রান দেন রংপুরের মাশরাফি।

তবে চতুর্থ ওভারের শেষ বলে এই দু’ওপেনারকে বিচ্ছিন্ন করেন ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ৮ রান দেয়া রংপুরের অফ-স্পিনার সোহাগ গাজী। ৩টি চারে ১৬ বলে ১৫ রান করা শান্তকে নিজের বলেই ক্যাচ নেন গাজী। এরপর ক্রিজে গিয়ে মারমুখী মেজাজেই শুরু করেছিলেন তরুন আফিফ হোসেন। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ১টি করে চার ও ছক্কায় ৯ বলে ১১ রান করে শ্রীলংকার লাসিথ মালিঙ্গার প্রথম শিকার হন আফিফ।

আফিফের বিদায়ে উইকেটে যাবার সুযোগ হয় খুলনার অধিনায়ক মাহমুদুুল্লাহ রিয়াদের। মালিঙ্গার বিপক্ষে মুখোমুখি হওয়া প্রথম দু’বলে ছক্কা ও চার হাঁকান রিয়াদ। এতে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় খুলনা অধিনায়কের। তাই পরের ওভারেও মারমুখী মেজাজেই ছিলেন তিনি।

পরের ওভারে রংপুরের বাঁ-হাতি স্পিনার নাজমুল ইসলামের দ্বিতীয় বলে ছক্কা ও তৃতীয় ডেলিভারিতে বাউন্ডারি মারেন রিয়াদ। তাই অধিনায়কের ব্যাটে চড়ে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে খুলনা। কিন্তু ছক্কা ও চার হজমের পরের ডেলিভারিতে রিয়াদকে বিদায় দেন নাজমুল ইসলাম। ২টি করে চার ও ছক্কায় মাত্র ৬ বলে ২০ রান করেন রিয়াদ।

দলীয় ৫৬ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে রিয়াদের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন ক্লিঞ্জার ও আরিফুল হক। দু’জনে উইকেট বাঁচিয়ে খেলার পরিকল্পনা করেন তারা। তাই ৭ ওভার শেষে যেখানে ৩ উইকেটে রান ছিলো ৫৭ রান, সেখানে ১১ ওভার শেষে ৩ উইকেটে রান হয় ৭৬। ওপেনার হিসেবে নেমে ১১ ওভার ক্রিজে থেকে ২২ বল মোকাবেলা করে মাত্র ১৫ রান করতে পারেন ক্লিনজার।

তবে ১২তম ওভারে থেমে যায় ক্লিঞ্জারের ধীর গতির ইনিংস। নামের পাশে ২১ রান রেখে রংপুরের ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় রবি বোপারার ইয়র্কার এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফিরেন কিঞ্জার। দলীয় ৮২ রানে তার বিদায়ের পর আরিফুলের ৩০ বলে ২৯, ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই খেলোয়াড় নিকোলাস পুরানের ২২ বলে ২৮ ও কালোর্স ব্র্যাথওয়েটের মাত্র ৯ বলে অপরাজিত ২৫ রানের সুবাদে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৭ রানের লড়াকু স্কোর পায় খুলনা টাইটান্স। ব্যাথওয়েটের ইনিংসে ৩টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। পুরান ২টি চার ও ১টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান। রংপুরের মালিঙ্গা ২টি, গাজী-নাজমুল-রুবেল-বোপারা ১টি করে উইকেট নেন।
জয়ের জন্য রংপুরের টার্গেট ১৬৮ রান। তাই হাড্ডাহাড্ডি এক লড়াইয়ে অপেক্ষায় ক্রিকেট ভক্তরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বিশ্বের বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইলের সাথে ব্যাট হাতে ওপেন করতে নামেন গাজী। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে খুলনার সফল পেসার আবু জায়েদকে ছক্কা হাকিয়ে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন গেইল। দ্বিতীয় ওভারে দু’টি চার ও একটি ছক্কায় সেই ইঙ্গিতকে আরও প্রশস্থও করেন তিনি।

তবে তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বলে গাজী ও নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামের পতন হয়। অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা দেখেছেন গেইল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোফরা আর্চার গাজীকে ১ ও ম্যাককে শুন্য রানে আউট করেন।

তাদের বিদায়ের পর নিজের বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেন গেইল। মোকাবেলা মাত্র ২২ বলে ৪৫ রান তুলে দলের স্কোর ২ উইকেটে ৫৯ রানে নিয়ে যান তিনি। নিজের ২৩তম বলে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পান গেইল। এ সময় ৪টি ছক্কা ও ৪টি চার মারেন টি-২০তে সর্বোচ্চ রানের মালিক গেইল।

গেইল যেখানে বিধ্বংসী রূপ দেখিয়েছেন, সেখানে অন্য প্রান্তে ধীরলয়ে এগোচ্ছিলেন মোহাম্মদ মিথুন। সিঙ্গেল নিয়ে গেইলকেই স্ট্রাইক দিচ্ছিলেন মিথুন। স্ট্রাইক পেয়ে খুলনার বোলারদের ওপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দেন গেইল। চার-ছক্কায় ফুলঝুড়ি ফুটতে থাকে মিরপুরের স্টেডিয়ামে।

শেষ পর্যন্ত ১৪তম ওভারের প্রথম বলে টি-২০ ক্যারিয়ারে ১৯তম, চলমান বিপিএলে নিজের প্রথম এবং টুর্নামেন্ট ইতিহাসে চতুর্থ সেঞ্চুরির তুলে নেন গেইল। ৬টি চার ও ১০টি ছক্কায় ৪৫ বলে সেঞ্চুরির স্বাদ নেন তিনি। তিন অংকে পা দেয়ার পর মুখোমুখি হওয়া পরের ছয় বলে আরও ৪টি ছক্কা মারেন গেইল।

১৬তম ওভারের প্রথম দুই বলে খুলনার নাজমুলকে পর পর দু’টি ছক্কা হাকিয়ে ২৮ বল বাকী রেখেই রংপুরের জয় নিশ্চিত করেন গেইল। শেষ পর্যন্ত ৬টি চার ও ১৪টি ছক্কায় ৫১ বলে ১২৬ রানে অপরাজিত থাকেন গেইল। তার সংঙ্গী মিথুনের সংগ্রহ ছিলো ৩৬ বলে ৩০ রান। তার ইনিংসে ৩টি চার ছিলো। ম্যাচের সেরা হয়েছেন গেইল।

বেস্ট বায়োস্কোপ স্পোর্টস
৮ ডিসেম্বর ২০১৭

Comments

comments

One thought on “গেইল ঝড়ে রংপুরের জয়, খুলনার বিদায়

Leave a Reply

%d bloggers like this: