ব্যান্ড সঙ্গীতের আদি ও বর্তমান

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: বাংলাদেশি ব্যান্ড বলতে প্রচলিত রক ঘরনার ব্যান্ডকেই বোঝায়। ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তানে বাংলা ব্যান্ডের সূচনা। আর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরে ৭০ ও ৮০’র দশকে বাংলাদেশে রক ঘরনার ব্যান্ডের বিস্তৃতি ঘটে।

বাংলাদেশের ব্যান্ড নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই যার কথা বলতে হয় তা হলো ব্যান্ড উচ্চারণ। বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের পুরোধা পপগুরু আজম খান এর হাত ধরেই এই ব্যান্ডের যাত্রা শুরু। তার হাত ধরেই ব্যান্ড সংগীত পেয়েছে জনপ্রিয়তা এবং মূলধারার সংগীত হিসেবে পেয়েছে আলাদা স্থান।

এই ব্যান্ডের মাধ্যমে আজম খান গেয়েছেন ‘সালেকা মালেকা’,’রেললাইনের ওই বস্তিতে’, ’আসি আসি বলে’, ’আলাল ও দুলাল’, ’অভিমানী’, ’অনামিকা’, ’মুক্তিসেনা আমি’, ’নসু ভাই’, ’সুখ তুমি কত দূরে’ এর মত অসাধারণ গান যেগুলো আজও তরুণ সমাজের কাছে জনপ্রিয়। এছাড়া বাংলাদেশের প্রথম মেটাল ব্যান্ড রকস্ট্রাটা এবং আশির দশক কাপানো আরেক ব্যান্ড, ইন ডাকা কে এখনো এই প্রজন্মের ব্যান্ডগুলো আইডল হিসেবে দেখে।

এই দুটি ব্যান্ড ছাড়াও ৮০-৯০ এর দশক কাঁপায় আরও কিছু ব্যান্ড। ওডেসি, মনিটর, সিম্পোনি, ধূমকেতু, ভাইকিংস, ভাইব, মেটাল মেইজ, পেপার রাইম, স্টিলার, মাকসুদ ও ডাকা, ডি ইলুমিনেশন, বাংলাদেশি বয়েজ, বাংলা ব্যান্ড, প্রমিথিউস, জেইনস, বিভীষিকা, মিউজিক টাচ, পালস, রাজত্ব, ফেইথ, সোয়াট, অর্কিড, ড্রিমল্যান্ড, স্টারলিং এত মত ব্যান্ডগুলো পুরো নব্বই এর দশক জুড়ে একক এলবাম, মিক্সড এলবাম এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অংশে কনসার্ট করে নিজেদের সংগীত প্রতিভার যেমন বিচ্ছুরণ ঘটিয়েছে তেমনি দেশের ব্যান্ড সংগীতে এনেছে সুস্থ প্রতিযোগীতা এবং নতুন জোয়াড়। তবে এই শতকের শুরুর দিকে ব্যান্ডগুলো কিছুটা মলিনই বলা চলে। তবে টেকনোলজি এবং সফটওয়্যার এর যুগে তাদের ন্যাচারাল মিউজিক আজও হৃদয় এর কাছাকাছি অবস্থানে।

উল্লেখ্য,বাংলাদেশ ব্যান্ডের ইতিহাসে গুরু আজম খান ও সদ্য প্রয়াত আইয়ূব বাচ্চুর (এলআরবি) অবদান অপূরণীয়,

গান ভক্তদের মনে আজীবনের জন্য যায়গা করে পূর্ণ মিউজিক লাইফ শেষ করে লক্ষ কোটি ভক্তদের কাঁদিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন পরপারে।

তবে আগের মতো এখন আর সব ব্যান্ড সঙ্গীতে গানের কথা,সময়োপযোগীতা ও বহু ক্ষেত্রে সাবলিল ভাষা প্রয়োগ হয়না, এখন সবাই ব্যস্ত স্পন্সরের মন জয় করা নিয়ে, যেন গান তৈরী করেছে স্পন্সরের জন্যই। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে ব্যান্ড সঙ্গীত মৌলিক গানের দিকে মনোযোগ দিতে পারলেও শিল্পী ও গানের জন্য ভালো বলে মনে করছেন ভক্তরা। এতেই ব্যান্ড সঙ্গীত পাবে তার নিজস্ব স্বকীয়তা, ফিরে পাবে তার পূর্ণ সৌন্দর্য্য।

বেস্ট বায়োস্কোপ বিনোদন
২৪ অক্টোবর ২০১৮

Comments

comments

Leave a Reply

Share via
0 Shares
%d bloggers like this: