কে এই স্ট্যান লি?

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: স্ট্যান লি, কমিকপ্রিয় কোটি কোটি মানুষের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধার নাম। মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তবে কি করেছেন স্ট্যান লি, কেনই বা এত জনপ্রিয়? বিশ্বের জনপ্রিয় যত কমিকচরিত্র তার বেশিরভাগেরই জন্ম হয়েছে তার কলমের ছোঁয়ায়। স্পাইডারম্যান, এক্সমেন, আয়রন ম্যান, ক্যাপ্টেন আমেরিকা, ব্ল্যাক প্যান্থার, অ্যাভেঞ্জার্সসহ অসংখ্য কমিক চরিত্রের স্রষ্টা তিনি।

স্ট্যান লি মার্টিন লিয়েবার, ১৯২২ সালে নিউ ইয়র্ক শহরের এক নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম হয় তার। বাবা জ্যাক লিয়েবার ছিলেন সামান্য দর্জি। মন্দার বাজারে পরিবারের পাশে দাড়াতে লি স্কুলে পড়ার সাথে সাথে যোগ দিলেন টুকটাক নানা কাজে – যেগুলোর মধ্যে খবরের কাগজের হয়ে মৃত্যুসম্বন্ধীয় কলামও লিখতে হয়েছে।

তার পরিবার এসেছিল রোমানিয়া থেকে। কমিকসে তার ক্যারিয়ার শুরু হয় টাইমলি পাবলিকেশনের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটি ছিল তার এক আত্মীয়ের। কমিক চরিত্র তৈরির অসাধারণ পারদর্শিতার কারণে মাত্র ১৮ বছর বয়সে “সম্পাদকের” পদ লাভ করেন তিনি।

তার নাম মূলত স্ট্যান লিবারম্যান হলেও তিনি পরবর্তীতে “লি” হিসেবে নিজের পরিচয় সৃষ্টি করেন।

তরুণ বয়সীদের আকৃষ্ট করতে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মার্ভেলে ক্রাইম, হরর এবং ওয়েস্টার্ন কমিক স্টোরি নিয়ে কাজ করেন স্ট্যান লি। সে সময় তার কমিকস ভীষণ জনপ্রিয় হলেও লি যেন আরও ভিন্ন কিছু করার চেষ্টায় ছিলেন।

পরে ৪০ বছর বয়সে তিনি কমিকস দুনিয়াকে বিদায় জানাতে চাইলেও তার স্ত্রী জোয়ান তাকে উৎসাহ দেন নিজের সেই চরিত্রগুলো নিয়ে লিখতে যেটা লি সব সময় চেয়েছিলেন।

কমিকসের নিজের ক্যারিয়ার শুরু ১৭ বছর বয়সে। চাচার সুপারিশে লি যোগ দেন ‘Times Comics’- এর অফিসে । কাজ? কমিকস্‌ লেখা বা আঁকা সংক্রান্ত কিছু ভাবলে খুব ভুল করবেন । প্রথম দুবছর স্ট্যান লির ডিউটির অন্তর্ভুক্ত ছিল কর্মচারীদের লাঞ্চ এনে দেওয়া, তাদের টেবিল পরিষ্কার রাখা, দোয়াত-কলম গুছিয়ে রাখা, ইত্যাদি।

অবশেষে, ১৯৪১ সালে বেশ সাহস করেই স্ট্যান লি নামে লি টাইমস কমিকসের হয়ে লিখে ফেললেন নিজের প্রথম কমিকস্‌-কীর্তি – ‘Captain America Foils the Traitor’s Revenge’ । কমিকসটি  প্রশংসনীয়ভাবে উতরেও যায় । প্রসঙ্গত বলা যায়, Captain America-র বিখ্যাত ঢালের ব্যুমেরাং সুলভ ব্যবহারটি সর্বপ্রথম এই কমিকসেই পাওয়া যায় ।

প্রত্যাশিতভাবেই কোম্পানির প্রকাশক মার্টিন গুডম্যানের সুনজরে এসে এরপর লি উন্নীত হন কোম্পানির অন্তর্বতী সম্পাদকের পদে । ১৯৭২ সাল পর্যন্ত স্ট্যান লি  টাইম কমিকস যা বর্তমানে মার্ভেল কমিকস নামে পরিচিত।

১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে স্ট্যান লি আমেরিকার সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন । আট বছর সৈন্যবাহিনীতে থেকে ১৯৫০ সালে লি আবার ফিরে যান পুরোনো কোম্পানিতে, যা ইতিমধ্যে নাম পাল্টে অ্যাটলাস কমিকস হিসাবে পরিচিত ।

পঞ্চাশের দশকের শেষের দিকে চিরপ্রতিদ্বন্ধী ডিসি কমিকসের (DC Comics) জাস্টিস লিগ অব আমেরিকা (Justice League of America) নামক কমিক-স্ট্রিপটির প্রভূত সাফল্য লক্ষ্য করে মার্টিন গুডম্যান, স্ট্যান লি কে বলেন কমিক্সের বাজারে নতুন কিছু জবরদস্ত চরিত্রের আমদানি করতে । এই সময়ই বলা যেতে পারে স্ট্যান লি-র হাত ধরে সুপারহিরো কমিকসের ঘরানায় এক বিপ্লব আসে। জ্যাক কার্বি, জো সাইমন ও অন্যান্য লেখক চিত্রশিল্পীদের কালি-কলমের রেখায় আবির্ভাব হতে থাকে ফ্যান্টাস্টিক ফোর, হাল্ক, থর, আয়রন ম্যান, এক্স মেন, ডেয়ারডেভিল এবং স্পাইডারম্যান এর।

এখানেই শেষ নয়, স্ট্যান লির নির্দেশনায় প্রতিটি চরিত্র হয়ে ওঠে বাস্তবতায় পরিপূর্ণ । তারাও কলেজে সিলেবাসের চাপ, প্রেমিকার সাথে ঝগড়া, মাসের শেষে পকেটে টান, বেকারত্ব, এমনকি সর্দিকাশিরও সম্মুখীন হয় প্রায়ই । স্বভাবতই আমজনতা এদের লুফে নেয় ।

তাই নিজের জীবনাবসান ঘটলেও তার সৃষ্টির মাধ্যমে নিশ্চিতভাবেই বেঁচে থাকবেন ভক্তদের মাঝে।

বেস্ট বায়োস্কোপ কমিকস
১৩ নভেম্বর ২০১৮

Comments

comments

Leave a Reply

Share via
3 Shares
%d bloggers like this: