ডিপিএল: প্রথম হার মোহামেডানের, জয়রথ অব্যাহত আবাহনীর

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে চতুর্থ ম্যাচে এসে প্রথম হারের স্বাদ পেয়েছে মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব। চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে মোহামেডান ৪ উইকেটে হেরেছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের কাছে। চার ম্যাচে ৩জয় ১হারে ৬ পয়েন্ট মোহামেডানের। একই চিত্র রূপগঞ্জেরও। অন্যদিকে জিতেই চলেছে আবাহনী লিমিটেড। চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে আবাহনী ৫ উইকেটে হারিয়েছে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে। এবারের লিগে চার খেলায় চতুর্থ জয়ের স্বাদ নিলো আবাহনী।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্বান্ত নেয় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। আগে ব্যাট করার সুযোগটা প্রথমে কাজে লাগাতে পারেনি মোহামেডান। ৪২ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারায় তারা। অভিষেক মিত্র ৬ ও তুষার ইমরান ১৯ রান করে থামেন। তবে আরেক ওপেনার আব্দুল মজিদ ছিলেন ব্যতিক্রম। এক প্রান্ত আগলে রান তোলার কাজটা করছিলেন তিনি। ছোট ছোট ইনিংস খেলে তাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যানরা।

তবে ছয় নম্বরে নামা নাদিফ চৌধুরির সাথে সর্বোচ্চ ৮৩ রানের জুটি গড়েন মজিদ। সেই সাথে লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরি করেন নাদিফ। মজিদের সেঞ্চুরি, নাদিফের হাফ-সেঞ্চুরির সাথে শেষদিকে শ্রীলংকার চাতুরঙ্গা ডি সিলভার ৯ বলে অপরাজিত ২৩, সোহাগ গাজীর ১৩ বলে ১৭ রানের সুবাদে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৯৫ রানের বড় সংগ্রহ পায় মোহামেডান। ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১২৬ বলে ১০৭ রান করেন মজিদ। মারমুখি ব্যাটিং করে ৪টি করে চার-ছক্কায় ৪৭ বলে ৬৪ রান করেন নাদিফ। রূপগঞ্জের মোহাম্মদ শহীদ ৭০ রানে ৩ উইকেট নেন।

জয়ের জন্য ২৯৬ রানের লক্ষ্যে ৪০ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারায় রূপগঞ্জ। এরপর মোমিনুল হক ও শাহরিয়ার নাফীসের ব্যাটে চড়ে খেলায় ফেরার পথ খোজে তারা। মোমিনুল ৫৫ ও নাফীস ২৫ রান করে দলীয় ১২২ রানের মধ্যে বিদায় নেন।

এরপর ৯৯ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক নাইম ইসলাম ও ঋষি ধাওয়ান। দু’জনই হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পান। ধাওয়ান ৫১ রানে থামলেও দলকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন নাইম। ষষ্ঠ উইকেটে উইকেটরক্ষক জাকের আলীকে নিয়ে ৭১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের কাছে পৌঁছে দিয়ে বিদায় নেন নাইম। ৮টি চারে ৯২ বলে ৮৫ রান করেন তিনি। জাকের ২৬ বলে অপরাজিত ৩৪ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন নাইম।

অন্যদিকে এখন পর্যন্ত লিগের একমাত্র অপরাজিত দলও আবাহনী। অপরদিকে চার ম্যাচে অংশ নিয়ে সবগুলোই হারলো শাইনপুকুর। ৪ খেলায় ৮ পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে আবাহনী।

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয় আবাহনী। বল হাতে ডান-হাতি পেসার রুবেল হোসেন জোড়া আঘাত হানেন শাইনপুকুর শিবিরে। ফলে ২০ রানে ২ উইকেট হারায় শাইনপুকুর। এরপর ১৬ রানের বেশি করতে পারেননি আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম।

তবে মিডল-অর্ডারে তৌহিদ হৃদয় ও অধিনায়ক আফিফ হোসেন ৮১ রানের জুটি গড়ে দলকে খেলায় ফেরান। দু’জনই হাফ-সেঞ্চুরির আগে বিদায় নেন। আফিফ ৪৮ ও হৃদয় ৩৯ রান করে আউট হন। পরের দিকের ব্যাটসম্যানরাও আবাহনীর বোলারদের সামনে নিজেদের সেরাটা দিতে না পারলে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২০৩ রানের সম্মানজনক স্কোর পায় শাইনপুকুর। আবাহনীর অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন ৪১ রানে ৩, রুবেল-নাজমুল ২টি করে উইকেট নেন।

জবাবে শুরুটা ভালো ছিলো আবাহনীর। ভারতের ওয়াসিম জাফরকে নিয়ে ইনিংস শুরু করেন সৌম্য সরকার। দু’জনে সর্তকতার সাথেই খেলতে থাকেন। ফলে দুই ওপেনারের কাছ থেকে ১৭ দশমিক ৫ ওভারে ৬২ রান পায় আবাহনী। ৩৩ রান করা সৌম্যকে বিদায় দিয়ে আবাহনী শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন শাইনপুকুরের শুভাগত হোম।

এরপর দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন জাফর ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ৮৫ রান যোগ করেন তারা। দলীয় ১৪৭ রানে আউট হন শান্ত। এরপর নিয়মিত বিরতি দিয়ে আরও ৩ উইকেট হারায় আবাহনী। এতে ৫ উইকেটে ১৭৪ রানে পরিণত হয় তারা। কিন্তু শেষদিকে সাব্বির রহমান ও মুনীম শাহরিয়ার ৩২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে আবাহনীর জয় নিশ্চিত করেন। সাব্বির ১৩ ও মুনীম ২১ রানে অপরাজিত থাকেন। জাফর ৪টি চারে ১০৬ বলে ৭৬ ও শান্ত ৪২ রান করেন। শাইনপুকুরের শরিফুল ইসলাম ৩টি উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন আবাহনীর ভারতীয় রিক্রুট জাফর।

বেস্ট বায়োস্কোপ স্পোর্টস
১৯ মার্চ ২০১৯

Comments

comments

Leave a Reply

Share via
269 Shares
%d bloggers like this: