অলিম্পিক ভিলেজে কেমন আছেন অ্যাথলেটরা

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: শুরু হয়ে গেছে, বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসর অলিম্পিক। আয়োজনের দিক থেকে কোনো ত্রুটি রাখতে চায় না স্বাগতিক ব্রাজিল। তবে শুরুর আগেই অলিম্পিক ভিলেজ নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ আসছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দল তো ভিলেজে না উঠে বিলাসবহুল জাহাজে উঠছে। অভিযোগ করেছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাথলেটরা। তারা উঠছে আলাদা হোটেলে।

তবে আসলে অলিম্পিক ভিলেজের অবস্থা কি? অলিম্পিকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের দাবি, তারা নাকি ‘আসল ভিআইপি’।

খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ এবং ভেন্যুতে সময়মতো পৌঁছানোর জন্য কম চেষ্টা করেনি রিও ২০১৬ অলিম্পিক আয়োজনকারী কমিটি। প্রতিযোগীরা যেন খেলায় পুরোটা দিতে পারে সেজন্য সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

রিও ২০১৬ অলিম্পিকের স্পোর্টস ডিরেক্টর আগবার্তো গিমারেজ বলেন, প্রতিযোগীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রতিযোগিতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। বাকি খেলোয়াড়দের আমাদেরকে খুব ভালোভাবে দেখাশুনা করতে হবে যাতে খেলার মধ্যে কোন ধরণের চাপ না তৈরি হয়।’

তিন অলিম্পিকে অংশ নেওয়া সাবেক দৌড়বিদ গিমারেজ খেলোড়দের সুবিধা-অসুবিধার ব্যাপারটিতে ওয়াকিবহাল। তিনি জানেন খেলোয়াড়দের ভালো খেলতে কী দরকার।

তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের ভালোর খেলার প্রথম তিনটি মৌলিক উপাদান হলো থাকা, খাওয়া এবং যাতায়াত। নিজের মতো করেই আমি একজন খেলোয়াড়ের কথা ভাবি। মৌলিক উপাদানগুলোর অভাব একজন খেলোয়াড়ের মনযোগ নষ্ট করে দিতে পারে। খেলোয়াড়দের উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থাও একটি মৌলিক উপাদান যাতে তারা ভেন্যুতে দেরি করে না পৌছায়। খেলোয়াড়দের জন্য আরামদায়ক যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

সেক্ষেত্রে, অলিম্পিক ভিলেজটি অনেক ট্রেনিং এবং গেম ভেন্যুর কাছাকাছি অবস্থিত। ভিলেজ থেকে অন্যান্য ইভেন্ট জোনে যেতে সর্বজনস্বীকৃত গাড়ি এবং রাস্তা রয়েছে বলেও ওয়েবসাইটে দেখা যায়।

তাছাড়া খেলোয়াড়দের বিনোদন, আরাম এবং গোপনীয়তা রক্ষা কথা ভেবে ভিলেজটি নকশা করা হয়েছে।

গিমারেজ বলেন, ‘ভিলেজের ভিতরে অবসর এলাকা থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু খেলোয়াড়রা সাধারণত এসব স্থানে যান না কেননা তা খেলোড়াদের মনে ক্ষোভ তৈরি করতে পারে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোমাধ্যমের এই যুগে খেলোয়াড়রা নিজেদের কক্ষ থেকে খুব কমই বের হন। তারা চর্চা করেন, খেতে যান এবং তারপর কক্ষে ফিরে যান। খেলোয়াড়দের অনেক বেশি গোপনীয়তা থাকে।’

অ্যাথলেট পার্কের ট্রেনিং সেন্টারগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন ভিড় না হয়। তাছাড়া খেলোয়াড়রা সেখানে থেকে সুবিধামতো ভিলেজে যেতে পারবেন। তাছাড়া প্রত্যেক স্পোর্টস ফেডারেশনের সুপারিশ অনুযায়ী ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে উপকরণ রাখা হয়েছে যাতে খেলোয়াড়রা তাদের ট্রেনিং বজায় রাখতে পারে। অন্যদিকে, ভিলেজে পলিক্লিনিক থাকবে যেখান থেকে খেলোয়াড়রা সবধরণের চিকিৎসা সহায়তা পাবে।

গিমারেজ বলেন, ‘আমি যখন ভিলেজে পৌছেছিলাম, তখন ট্রেনিং সাইট, বিশ্রামাগার, খাবার এবং খেলোয়াড়দের গোপনীয়তার ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।’ আর এ সব কিছুতে আমাদের মনযোগ থাকতে হবে। খেলা চলাকলীন খেলোয়াড়দের ট্রেনিংয়ে বিভ্রান্ত করে এমন কিছুই ভিলেজে থাকবে না। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করে চলেছি। শেষমেষ, আমরা চাই, গত কয়েক বছরের চর্চার মাধ্যমে খেলোয়াড়রা যে আত্মজীবনী শক্তি ও দক্ষতা অর্জন করেছে তা যেন তারা ঠিকমতো প্রয়োগ করতে পারে।

তবে অলিম্পিক ভিলেজের এতো সুবিধা সত্ত্বেও মার্কিন ও অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা ভিলেজ বয়কট করেছে। অন্যান্য অনেক দেশের খেলোয়াড়রা ভিলেজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ফলে এদিক দিয়ে কিছুটা বিব্রত স্বাগতিকরা। কারণ এর আগে জিকা ভাইরাস ও পরিবেশের দোহাই দিয়ে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে বেশ কয়েকজন অ্যাথলেট।

এখন শেষ পর্যন্ত কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অলিম্পিক আয়োজন করা ব্রাজিলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

বেস্ট বায়োস্কোপ স্পোর্টস
৫ আগস্ট ২০১৬

Comments

comments

Leave a Reply

10 Shares
Share via
%d bloggers like this: