রঙ্গনা হেরাথের ব্যতিক্রমী হ্যাটট্রিক

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ৪২তম হ্যাট্রিক করলেন শ্রীলংকার অভিজ্ঞ স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ। গলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে হ্যাট্রিকের স্বাদ পান তিনি। দ্বিতীয় শ্রীলংকান হিসেবে এই হ্যাট্রিকের কীর্তি গড়লেন হেরাথ।

তবে তার হ্যাট্রিকটি ছিলো অদ্ভূত ধরনের। কারণ ডিআরএস-এর সহায়তায় হ্যাট্রিকের স্বাদ পান হেরাথ। আগের ৪১টি হ্যাট্রিকের কোনটিতেই ডিআরএস-এর স্বাদ পাননি বোলাররা। ফলে হেরাথের হ্যাট্রিকটি অন্যরকম আলো ছড়াবে রেকর্ড বইয়ে।

বুড়ো বয়সেও হাতের ভেল্কিটা ভালো জানেন হেরাথ। তার প্রমাণ গত টেস্টেই দিয়েছিলেন তিনি। গল টেস্টেও বল হাতে ভেল্কির আরও একটি নমুনা দেখালেন হেরাথ। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ২৫তম ওভারের চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ বলে তিনটি উইকেট নিয়ে হ্যাট্টিক পূর্ণ করেন হেরাথ। তবে তার হ্যাট্রিকটি বেশ অদ্ভূত।
হ্যাট্রিকের পথে এডাম ভোজেসকে প্রথম ফিরিয়ে দেন হেরাথ।

এরপরের বলেই লেগ-বিফোর ফাঁেদ ফেলেন উইকেটরক্ষক পিটার নেভিলকে। ফলে হ্যাট্রিকের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যান হেরাথ। পরের বলেই মিচেল স্টার্ককেও লেগ বিফোর ফাঁদে ফেলে সতীর্থদের নিয়ে জোড়ালো আবেদন করেন তিনি। কিন্তু সেই আবেদনে সাড়া দেননি নিউজিল্যান্ডের আম্পায়ার ক্রিস গাফানি।

কিন্তু তাতে কি, ডিআরএস তো আছে। ভাগ্যের পরীক্ষা নেয়া যেতেই পারে। তাই ডিআরএস নিয়ে নিলো শ্রীলংকা। সেই ডিআরএস জানালো- ‘স্টার্ক আউট’। ফলে অদ্ভুত হ্যাট্রিকের স্বাদ নেন হেরাথ। ডিআরএস-এ হ্যাট্রিক করা প্রথম বোলার তিনিই। তবে হ্যাট্টিকের তালিকায় দ্বিতীয় শ্রীলংকান হেরাথ। ১৯৯৯-০০ মৌসুমে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম শ্রীলংকান হিসেবে হ্যাট্রিক করেছিলেন বাঁ-হাতি পেসার নুয়ান জয়সা।

এই অদ্ভূত হ্যাট্রিকে রেকর্ডের পাতায় নিজের নাম লিখেছেন হেরাথ। সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাট্রিক পাওয়া বোলার এখন হেরাথ। ১৯৩৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৮ বছর ৮৭ দিনে হ্যাট্টিক করেছিলেন ইংল্যান্ডের টম গডার্ডের। আর হেরাথ তার প্রথম হ্যাট্রিকটি করলেন ৩৮ বছর ১৩৯ দিনে।

ইংল্যান্ডের জনি ব্রিগসের পর দ্বিতীয় বাঁ-হাতি অর্থোডক্স বোলার হিসেবে হ্যাট্রিক করলেন হেরাথ। ১৮৯২ সালে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাঁ-হাতি অর্থোডক্স বোলার হিসেবে হ্যাট্রিক করেছিলেন গিগস।

বেস্ট বায়োস্কোপ স্পোর্টস
৫ আগস্ট ২০১৬

Comments

comments

Leave a Reply

0 Shares
Share via
%d bloggers like this: