আয়নাবাজি : সাধারণ গল্পের অসাধারণ থ্রিলার

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: আয়নাবাজি নিয়ে মেতেছে বাংলাদেশের সিনেমাপ্রেমীরা। মুকিতর আগে ট্রেলার দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলা এই চলচ্চিত্রটি এখন আগ্রহর কেন্দ্রে। ট্রেলারের পর সিনেমা দেথেও সবাই মন্তব্য করছেন, রিভিউ দিচ্ছেন। বেস্ট বায়োস্কোপ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হবেক সিনেমাপ্রেমীদের রিভিউ। আজ দেখুন মাহমুদুল হাসান রিফাতের রিভিউ 

 ‘চারপাশ বদলে যায়- থেমে যায় সময়,মিথ্যা তখন সত্যি হয়।সবার জন্য সব সত্যি, আমার জন্য …. অভিনয়।’
আমাদের চারপাশে কত মানুষ। তাদের ভেতর ক’জনেরই ভিতরটা আমরা জানি? কিছু কিছু মানুষ ভেতর থেকে পাক্কা অভিনেতা। সময়ের সাথে পাল্টাতে পারে রুপ,পাল্টাতে পারে স্বভাব। সে অভিনয় কখনো কখনো নিয়ে যেতে পারে মারাত্মক কোন ঘটনায়,যা হতে পারে আত্মঘাতী।

ছবি : আয়নাবাজি
অভিনয় : চঞ্চল চৌধুরী, নাবিলা (নবাগতা), পার্থ বড়ুয়া, জামিল।
পরিচালক : অমিতাভ রেজা।
প্লটঃ একজন অভিনেতা নিজের জীবনের সাথেই অভিনয় করতে থাকে,আর ফেসে যায় এক চক্রে। সাধারণ গল্প হয়ে যায় থ্রিলার। সেই অভিনয় তাকে কোথায় নিয়ে যায় তা জানতে দেখতে হবে আয়নাবাজি।

মুভি সম্পর্কে কথা: একটা দারুণ সামাজিক গল্প। প্লটটা অন্যসব মুভি থেকে আলাদা। এরকম গল্পে মুভি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে হয়নি। প্লটটা এমনই বাইরের কোন দেশে হবার সম্ভাবনাও নেই। একদম আগাগোড়া মৌলিক গল্প। মুভিতে একটা সময়ও মনে হয়নি ধীরগতির। সাধারণ কথায় হাস্যরস ফুটে উঠেছে। সিনেমাটোগ্রাফি শুরুতে একটু খারাপ লাগলেও পরে মানিয়ে যাবে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো বেশ মানানসই ছিল।
মুভির প্রধান আকর্ষণ চঞ্চল চৌধুরী। এক সিনেমায় ভোল পাল্টেছেন গুণে গুণে ৫ বার। প্রতিটি লুকেই ছলেন সাবলীল। প্রতিটি লুকে ক্যারেক্টার এনেছেন ভিন্ন ভিন্ন। দুর্দান্ত অভিনয় যাকে বলে,তার সবটাই তিনি দিয়েছেন। ট্রেলারে দেওয়া হাসিটার মতো পুরো মুভিতে বেশ কিছু সিনে তাকে লাগবে অনবদ্য, দুর্দান্ত।

পার্থ বড়ুয়ার চরিত্র ছিল দুর্দান্ত। একজন সাংবাদিক রহস্যের খুঁজে কীভাবে পিছু নিতে পারে তা এ গল্পে দারুণ ফুটিয়েছেন। তার ডায়লগ ডেলিভারি, এংগ্রি লুক তার ক্যারিয়ারের সেরা অভিনয় তা বলে দিতে হবেনা। পুরো গল্পের অর্ধেক সময় যদিও তাকে এন্টি হিরো মনে হতে পারে কারো কাছে। তার সাথে জামিলের কমেডি পাঞ্চ ভাল ছিল। সহজ কথায় হাসিয়েছেন। মদ খাওয়ার পর্দায় তার এক্সপ্রেশন সবাইকে হাসিয়েছে।

গল্পের নায়িকা চরিত্রটা একেবারে অগুরুত্বপূর্ণ বলা যায়না। নবাগতা নাবিলা ভালভাবেই পাশ মার্ক পেয়ে যাবেন। যদিও স্পোর্টস প্রেজেন্টার হিসেবে আগেই পরিচিত মুখ, তবে সেই সাবলীলতা পর্দায় পাওয়া গেছে।তার চুমুর দৃশ্য নিয়ে যে আগ্রহ ছিল, সে সম্পর্ক বলব পরিবারের সবাই নিয়েই সেই দৃশ্য হয়তো দেখা যাবে। অশ্লীলতা ছিল না মুভিতে। তাকে গ্লামারাস হিসেবে দেখানো হয়নি। সাধারণ মেয়ে হিসেবেই অনবদ্য লুক দিয়ে গেছেন পুরো মুভিতে।
পার্শ্বাভিনতা হিসেবে যারা ছিলেন তারা প্রত্যেকেই ভাল অভিনেতা। তথাকথিত গ্যাটিজ ইউজ করা হয়নি বলে সুন্দর অভিনয়ের ভিজুয়াল রুপ পাবেন আয়নাবাজিতে। মুভির শেষ দৃশ্যে একজন বড় সুপারস্টারের ক্যামিও চমক দিবে আপনাকে।আর শেষ কথা, ফাইনাল মোমেন্টের চিত্রনাট্য বাংলা মুভির ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট। ডিরেক্টর অমিতাভ রেজা আয়নাবাজিতে রীতিমতো বাজিমাত করেছেন।

বেস্ট বায়োস্কোপ বিনোদন
১ অক্টোবর ২০১৬

Comments

comments

Leave a Reply

4 Shares
Share via
%d bloggers like this: