দর্শকপূর্ণ সিলেট স্টেডিয়াম, উৎসবমুখর পরিবেশে স্বাগতিকদের জয়

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: কানায় কানায় পূর্ণ মানুষ, তিল ধারণের জায়গা নেই। দর্শক ধারণক্ষমতা ১৮ হাজার হলেও এদিন নিশ্চিতভাবেই আরও বেশি মানুষ খেলা দেখতে এসেছিলেন সিলেটের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। এদিনই যে ২২ গজে দেখা মিলেছে মাশরাফি, সাকিব, ড্যারেন স্যামিদের। বিপিএল টি-টোয়েন্টির পঞ্চম আসরের খেলা শুরুর আগেই স্টেডিয়ামের গ্যালারিজুড়ে শুধু দর্শক আর দর্শক। পছন্দের দলের পক্ষে তাদের সমর্থন যেনো উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি করছে।

শনিবার বেলা ২টায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা ডায়নামাইটস ও সিলেট সিক্সার্সের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হয় পঞ্চম আসরের খেলা। নিজেদের মাঠে প্রথম বারের মতো অনুষ্ঠিত বিপিএল আসরের উদ্বোধন নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ছিলো অনেক বেশি। নতুন নামে নিজস্ব পৃষ্ঠপোষকতায় সিলেটের দল এবারের বিপিএল এ অংশ নেয়ায় সেটি পায় নতুন মাত্রা। খেলা শুরু হওয়ার পরও স্টেডিয়ামের সামনে টিকিট পাওয়ার চেষ্টা ছিল অব্যাহত ছিল। তবে, টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন অনেকে।

এদিকে প্রচন্ড রোদের আলো উপেক্ষা করে শুরু থেকে গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করছেন ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকরা। সব গ্যালারিতে নির্দিষ্ট চেয়ার থাকলেও পশ্চিম প্রান্তে একমাত্র গ্রিন গ্যালারিতে টিলার উপর সবুজ ঘাসে বসে খেলা উপভোগ করছেন দর্শকরা।
স্টেডিয়ামে আগে ১৩ হাজার ৫শ’ ৩৩ আসন ছিল। প্রায় ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে সম্প্রতি নতুন ক্লাব হাউজ নির্মাণ করা হয়েছে। এখন সিলেট স্টেডিয়ামে গ্যালারির আসন সংখ্যা ১৭ হাজার ১শ’ ৯৩। তবে স্টেডিয়ামে রয়েছে দেশের প্রথম গ্রিন গ্যালারি। এই গ্রিন গ্যালারি ও গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড মিলিয়ে আসন সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজারেরও বেশি।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, সিলেটে মানুষ খেলার প্রতি বেশ আগ্রহী। কিন্তু সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের ধারণ ক্ষমতা মাত্র ১৮ হাজার। তাই, সবাইকে খেলা দেখার সুযোগ দেয়া যাচ্ছে না। পরবর্তীতে আরো অনেক খেলা অনুষ্ঠিত হবে। তখন সিলেটের দর্শকরা উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

এছাড়া নিজেদের অভিষেকেই জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক সিলেট সিক্সার্স।নিজেদের মাঠে সিলেট ৯ উইকেটে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটসকে। অভিষেকেই দল জয় পাওয়ায় আনন্দিত স্বাগতিকদের ক্রিকেট প্রেমিরা। তাই নাসির-সাব্বিদের ধন্যবাদ দিতে ভুল করেননি সিলেটের ক্রিকেট প্রেমিরা। ম্যাচ শেষে জয়োল্লাস করে মিছিলও বের করেন তারা। চিৎকার দিয়ে ক্রিকেটপ্রেমিরা বলতে থাকেন, ‘সিলেট..সিলেট..লাগবে বাড়ি..বাউন্ডারি।’

বিপিএলের আগের চার আসরে অংশ নেয়নি সিলেট। এবারই প্রথম বিপিএলে অংশ নেয় তারা। আর নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই দুর্দান্ত এক জয় তুলে নেয় তারা। এমন জয়কে সিলেটের ক্রিকেটপ্রেমীরা অঘটন বলছেন, ‘প্রথমবার খেলতে নেমেই গতবারের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে দেয়া অনেক বড় ব্যাপার। এটি অঘটনই।’
সিলেটের টিলাগড়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজে স্নাতকের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষাথী নুরুল হোসেন বলেন, ‘নাসির-সাব্বিরদের ধন্যবাদ। প্রথম ম্যাচেই আমাদের জয় উপহার দেয়া।’

সিলেটের কুমারগাঁও এলাকায় অবস্থিত শাহজালার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘সিলেটের এমন জয় পরবর্তীতেও অব্যাহত থাকবে এবং এবার আমরা শিরোপা জিতবো।’

আগামীকাল নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মুখোমুখি হবে সিলেট সিক্সার্স। বিপিএলের সিলেট পর্বে ৭ ও ৮ নভেম্বর আরও দু’টি ম্যাচ খেলবে স্বাগতিকরা।

বেস্ট বায়োস্কোপ স্পোর্টস
৫ নভেম্বর ২০১৭

Comments

comments

Leave a Reply

4 Shares
Share via
%d bloggers like this: