ইমরুল-বাটলারের জুটিতে কুমিল্লার জয়, শেষ ওভারের নাটকীয়তায় শীর্ষে ঢাকা

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: আগের ম্যাচের মত দলের চতুর্থ ম্যাচেও ৭৪ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ‍টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পঞ্চম আসরে কুমিল্লাকে টানা দ্বিতীয় জয় এনে দিলেন ইমরুল কায়েস ও নিউজিল্যান্ডের জশ বাটলার। আসরের ১৪তম ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৬ উইকেটে হারিয়েছে চিটাগাং ভাইকিংসকে। আর শেষ ওভারে নাটকীয়ভাবে খুলনাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে ঢাকা।

মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেয় কুমিল্লা। ব্যাটি-এ নেমে এবারও দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন চিটাগং-এর নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড় লুক রঞ্চি। মারমুখী মেজাজে ১৯ বল মোকাবেলা করে ৩১ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ৫টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। রঞ্চির ব্যাটিং দৃঢ়তায় ৩১ বলে উদ্বোধণী জুটিতে ৪৬ রান পায় চিটাগাং।

রঞ্চির বিদায়ের পর চিটাগং-এর পরের তিন ব্যাটসম্যানের কেউই দ্রুত রান তুলতে পারেননি। তাই রঞ্চির কল্যাণে ৬ ওভারে যেখানে ৪৮ রান পেয়েছে চিটাগং, সেখানে পরের ১০ ওভারে মাত্র ৫১ রান পায় তারা। ১শ’র নীচে স্ট্রাইক রেট রাখা সৌম্য সরকার ৩০, শ্রীলংকার দিলশান মুনাবিরা ১৯ ও জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা ২০ রান করেন।

তবে শেষদিকে দ্রুত গতিতে রান তুলে চিটাগং-কে ৪ উইকেটে ১৩৯ রানে নিয়ে যান অধিনায়ক পাকিস্তানের মিসবাহ উল হক ও ইংল্যান্ডের ক্রিস জর্ডান। মিসবাহ ২টি চারে ১১ বলে অপরাজিত ১৬ ও জর্ডান ২টি বাউন্ডারিতে ৯ বলে অপরাজিত ১৬ রান করেন।

১৪০ রানের জয়ের লক্ষ্যে শুরুটা ধীরগতির ছিলো কুমিল্লার। তবে পরবর্তীতে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি দলের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন কুমার দাস। প্রথমবারের মত এবারের আসরে খেলতে নামা তামিম ৪ ও লিটন ২১ রান করেন। ৩৯ রানের মধ্যে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন ইমরুল কায়েস ও ইংল্যান্ডের জশ বাটলার।

আগের ম্যাচে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে অবিচ্ছিন্ন ৯৭ রানের জুটি গড়ে দলকে জয় এনে দেয়া ইমরুল ও বাটলার এবারও হাল ধরে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৭৪ রান যোগ করেন। ইমরুল ৩৬ বলে ৪৫ রান করেন। কিছুক্ষন পর ফিরেন বাটলারও। ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩০ বলে ৪৪ রান করেন তিনি। শেষদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারলন স্যামুয়েলস অপরাজিত ১৭ রান করে কুমিল্লার জয় নিশ্চিত করেন। চিটাগং-এর শ্রীলংকার মুনাবীরা ও সানজামুল ইসলাম ২টি করে উইকেট নেন।

এদিকে ঢাকা পর্বে প্রতিশোধের মিশনে নেমেছিল খুলনা টাইটানস। সিলেট পর্বে ঢাকা ডায়নামাইটসের কাছে হেরে মিরপুরে তাদের হারাতে মরিয়া ছিল খুলনা। তবে শেষ ওভারে এক বল হাতে রেখেই জয়টা ‍তুলে নেয় ঢাকা। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে ঢাকা।

দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ১৫৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে খুলনার বোলিংয়ে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি ঢাকা। ২৪ রানে ফিরে যান এভিন লুইস, শহীদ আফ্রিদি, ডেলপোর্ট ও নারাইন।  প্রথম ওভারে লুইসকে ফিরিয়ে আঘাতটা হানেন আবু জায়েদ। এরপর শফিউলের শিকার হন আফ্রিদি। ডেলপোর্টও দাঁড়োতে পারেননি।  আর্চারের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ২ রানে।  নারিনকেও থিতু হতে দেননি ধনঞ্জয়।  অধিনায়ক সাকিব চেষ্টা করেছিলেন প্রতিরোধ দিতে।  ব্যক্তিগত ২০ রানে তাকেও সাজঘরে ফেরান খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।

গুরুত্বপূর্ণ ৪ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল ঢাকা। ধুঁকছিল রান পেতে। আর সেই ঢাকাকেই ঝড়ো ব্যাটিংয়ে আশার আলো দেখান ক্যারিবীয় তারকা কাইরন পোলার্ড। ২৪ বলে ৫৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে ফেরেন। যেখানে ছিল ৩টি চার ও ৬টি ছয়। হুমকি হয়ে ওঠা এই তারকাকে ক্যাচ আউটে সাজঘরে ফেরান শফিউল ইসলাম। তবে তার এই ঝড়ো ইনিংসে ম্যাচে ফেরে ঢাকাকে। এরপর ঢাকাকে আটকে রাখার অনেক চেষ্টা করে খুলনার বোলাররা। এক পর্যায়ে দুই বলে ৪ রান প্রয়োজন ছিল ঢাকার।  নড়বড়ে এই পরিস্থিতিকে জয় করেন জহুরুল ইসলাম। চার মেরে হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়েন ঢাকার দুই ব্যাটসম্যান জহুরুল ও মোসাদ্দেক।  জহুরুল অপরাজিত ছিলেন ৪৫ রানে আর মোসাদ্দেক ১৪ রানে। ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯.৫ ওভারে জয়ের দেখা পায় ঢাকা ডায়নামাইটস।

বেস্ট বায়োস্কোপ, স্পোর্টস
১৫ নভেম্বর ২০১৭

Comments

comments

Leave a Reply

0 Shares
Share via
%d bloggers like this: