চট্টগ্রামকে ৫ উইকেটে হারালো খুলনা, সিলেটকে ৭ উইকেটে রাজশাহী

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ-বিপিএল টি-টোয়েন্টি শুক্রবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে খুলনা টাইটান্স। আর প্রথম ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে ৭ উইকেটের জয় পেয়েছে রাজশাহী কিংস।

এদিন মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৯ বছর বয়সী তরুণ বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান জাকির হাসানের ২৬ বলে অপরাজিত ৫১ রানের সাথে ওপেনার মোমিনুল হকের ৪২ রানের সুবাদে সিলেটকে হারিয়েছে রানার-আপ রাজশাহী। পঞ্চম খেলায় দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ নিলো রাজশাহী।

এই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে উঠে এলো তারা। আর সপ্তম ম্যাচে তৃতীয় হারে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকলো নাসিরের সিলেট।

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেয় রাজশাহী। শুরুটা ভালো করতে পারেনি সিলেট। ১৮ রানের মধ্যে দলের দুই ওপেনার শ্রীলংকার উপুল থারাঙ্গা ১০ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে ফ্লেচার শূন্য রান করে ফিরেন।

ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পেয়ে চার নম্বরে নামেন উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান। সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ১১ বলে ১০ রান করে ফিরেন। ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন অধিনায়ক নাসির হোসেনও। মাত্র ৯ রান করেন।

দলের অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের যাওয়া আসার মাঝেও সিলেটের রানের চাকা সচল ছিলো। কারণ অন্যপ্রান্তে স্কোর বোর্ড সচল রাখেন শ্রীলংকার দানুষ্কা গুনাথিলাকা। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৭ বলে ৪০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে ১৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে প্যাভিলিয়নে ফিরেন গুনাথিলাকা। এসময় সিলেটের রান ছিলো ৭১। অর্থাৎ ওভারপ্রতি রান ছয়ের নিচে।

এমন অবস্থায় সিলেটকে সম্মানজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পান সাব্বির রহমান ও ইংল্যান্ডের টিম ব্রেসনান। বেশ দক্ষতার সাথেই দায়িত্ব পালন করেছেন তারা। ষষ্ঠ উইকেটে ৩৮ বলে ৬৯ যোগ করেন তারা। এতে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় সিলেট।

সাব্বির ১টি চার ও ৪টি বিশাল ছক্কায় ২৬ বলে ৪১ রান করেন। অন্যপ্রান্তে ব্রেসনান ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৭ বলে অপরাজিত ২৯ রান করেন। রাজশাহীর ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড় কেসরিক উইলিয়ামস ৩২ রানে ২ উইকেট নেন।

এবারের আসরে দ্বিতীয় জয়ের জন্য ১৪৭ রানের টার্গেটে শুরুটা উড়ন্তই ছিলো রাজশাহীর। উদ্বোধনী জুটিতে ৬৫ রান যোগ করে রাজশাহীর জয়ের পথটা সহজ করে তোলেন দুই ওপেনার মোমিনুল হক ও রনি তালুকদার। দু’জনে ৫১ বল মোকাবেলা করে ৬৫ রান যোগ করেন। ২৪ রান করা রনিকে ফিরিয়ে সিলেটকে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দেন অধিনায়ক নাসির।

রনির বিদায়ের পরের ওভারে সিলেটকে আবারো উইকেট শিকারের আনন্দে ভাসান বাঁ-হাতি অর্থোডক্স স্পিনার নাবিল সামাদ। তিন নম্বরে নামা ইংল্যান্ডের সামিত প্যাটেলকে ১ রানের বেশি করতে দেননি নাবিল।

৬৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর ভড়কে যায়নি রাজশাহী। তরুণ জাকির ও মোমিনুল হকের ব্যাটে চড়ে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো তারা। মাত্র ৩ ওভার মোকাবেলা করে ৩১ রান যোগ করেন তারা। দলীয় ৯৭ রানে বিদায় ঘটে মোমিনুলের। ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৬ বলে ৪২ রান করেন মোমিনুল।

এরপর অবিচ্ছিন্ন ৫৩ রানের জুটি গড়ে রাজশাহীকে দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ এনে দেন জাকির ও মুশফিকুর রহিম। ৪টি চার ও ৩টি দর্শনীয় ছক্কায় ২৬ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন ১৯ বছর বয়সী জাকির। অন্যপ্রান্তে ২০ বলে ২৫ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশফিকুর।

এরপর দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে ভাইকিংস। আগের দুই ম্যাচে রান পাওয়া লুক রঞ্চি এ ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রথম ওভারের শেষ বলে ব্যক্তিগত ৩ ও দলীয় ৬ রানে আবু জায়েদের শিকার হন নিউজিল্যান্ডের এ তারকা ব্যাটসম্যান। এরপর অবশ্য আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারের সঙ্গে তিন নম্বরে নামা বিজয় দলকে টেনে তোলেন। বিজয়ের সঙ্গে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৯৫ ও ব্যাক্তিগত ৩২ রানে মাহমুদুল্লার শিকার হন সৌম্য। ৪৩ বল মোকাবেলায় ৪টি বাউন্ডারি হাকার তিনি। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি বিজয়। ৪৭ বল মোকাবেলায় পাঁচ বাউন্ডারি ও ৩ ওভার বাউন্ডারিতে ৬২ রান করে জায়েদের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন।

শেষ দিকে আফগানিস্তানের নাজিবুল্লাহ জাদরানের ২৪ ও স্টিয়ান ভ্যান জিলের অপরাজিত ২৩ রানের সুবাদে ১৬০ রানের লড়াকু স্কোর পায় চিটাগং। ১৬ বলে এক বাউন্ডারি ও দুই ওভার বাউন্ডারিতে ২৪ রান করা জাদরান রান আউটের শিকার হন। তবে ভ্যান জিল ১৫ বল মোকাকেবলায় দুই ছক্কায় ২৩ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। খুলনার পক্ষে জায়েদ নির্ধারিত ৪ ওভার বোলিং করে ২৬ রানে নেন ৩ উইকেট

জয়ের জন্য ১৬১ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খেলতে নেমে শুরুটা মোটেই ভাল করতে পারেনি খুলনা। দলীয় ১৫ রানেই উইকেট হারায় খুলনা। ব্যক্তিগত ১ এবং দলীয় ১৫ রানে ক্লিঞ্জার আউট হলেও রোসৌর মারমুখি ব্যাটিংয়ে জয়ের পথেই থাকে টাইটান্স। তিন নম্বরে নামা ধিমান ঘোষ মাত্র চার রানে ফিরে গেলেও দমে যাননি রোসৌ। তবে সপ্তম ওভারের পঞ্চম বলে হাফ সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে আউট হন রোসৌ। ২৬ বল মোকাবেলায় পাঁচ বাউন্ডারি ও তিন ওভার বাউন্ডারিতে ব্যক্তিগত ৪৯ ও দলীয় ৬০ রানে পেসার আল আমিন হোসেনের শিকার হন দক্ষিণ আফ্রিকার এ তারকা ব্যাটসম্যান।

এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত মাত্র ৯ রান করে তানভির হায়দারের শিকার হলে কিছুটা চাপে পড়ে যায় খুলনা। তবে অধিনায়ম রিয়াদ ও আরিফুল হক দলকে জয়ের কক্ষচ্যুত হতে দেননি।

২৪ বলে ৩৪ রান করা আরিফ তাসকিন আহমেদের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে জয় থেকে মাত্র ১২ রান দূরে ছিল টাইটান্স। তিনটি ওভার বাউন্ডারি হাকান আরিফ। ৩৪ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে ১০ বল হাতে রেখে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন অধিনায়ক। শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ২ বল মোকাকেবলা করে একটি করে বাউন্ডারি ওভার বান্ডিারিতে ১০ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে আসরের ১৮তম ম্যাচে টসের বিপরীতে আগে ব্যাটিং করে এনামুল হক বিজয়ের হাফ সেঞ্চুরিতে ভর করে ৫ উইকেটে ১৬০ রান সংগ্রহ করে চিটাগং ভাইকিংস।

বেস্ট বায়োস্কোপ স্পোর্টস
১৮ নভেম্বর ২০১৭

Comments

comments

Leave a Reply

0 Shares
Share via
%d bloggers like this: