কে এই মিস ওয়ার্ল্ড মানুষী চিল্লার

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভারতের কেউ পড়লেন বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট। মানুষী চিল্লারের হাত ধরে দেড় দশকের এই খরা কাটালো ভারত। ১৯৯৭ সালের ১৪ মে হরিয়ানায় এক চিকিৎসক পরিবারে জন্ম মিস ওয়ার্ল্ড মানুষী চিল্লরের। বাবা-মা দু’জনেই চিকিৎসক।

বাবা মিত্র বসু ছিল্লর ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের এক বিজ্ঞানী। আর মা নীলম ছিল্লর ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান বিহেভিয়র অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সের সহকারী অধ্যাপক। বাবা-মাকে দেখে ছোট থেকেই তাঁর ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে চিকিৎসক হবেন। তখন থেকেই পড়ার বইয়ে মুখ গুজে থাকতেন এই মেয়ে। আর বাকি পাঁচটা মেয়ের মতো পড়াশোনাটাই ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান।

পরে গোটা পরিবার হরিয়ানা থেকে চলে আসেন উত্তর দিল্লিতে। মানুষী ভর্তি হন দিল্লির সেন্ট থমাস স্কুলে। দ্বাদশ শ্রেণিতে খুব ভাল ফলাফল করে সোনিপাতের ভগতফুল সিংহ সরকারি কলেজ ও হাসপাতালে (মহিলা) ডাক্তারি নিয়ে ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী রাজা রেড্ডি, রাধা রেড্ডি এবং কৌশল্যা রেড্ডির কাছে তাঁর তালিম চলছিল কুচিপুড়ী নৃত্যশৈলীরও।

ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার ছাত্রী তিনি। পড়াশোনা, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, নাচ আর নাটক এই নিয়ে জীবনটা একই খাতে বইছিল মানুষীর। তবে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় এক বার অংশ নেওয়ার একটা সুপ্ত বাসনা ছিল মনের কোণায়। সে কথাটা মা-বাবাকে একদিন বলেও ফেলেন। মেয়েকে উৎসাহ দিতে কোনও কসুর করেননি তাঁরা।

সে সময় চণ্ডীগঢ়ে ছিলেন মানুষী। তিনি একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পান। আর দেরি করেননি। নাম নথিভুক্ত করে ফেলেন সেই প্রতিযোগিতায়।

সেই শুরু জীবনটাকে এক্কেবারে অন্য ভাবে দেখা। সেই থেকে বিশ্বের সেরা সুন্দরীর মঞ্চে সেরার তকমা আদায় করার জন্য শুরু কঠিন অধ্যাবসায়। যে সময় আর পাঁচটা ছাত্রী ঘুমতে যেতেন, সে সময় কঠিন ওয়ার্কআউটে ব্যস্ত থাকতেন ভারতের নতুন বিশ্ব সুন্দরী। একটা বছর ঠিকমতো পড়াশোনাটাও করে উঠতে পারেননি সে জন্য।

এ সব কিছু অবশ্য বৃথা যায়নি। বিজয়ীর শেষ হাসিটা হেসেছেন তিনিই। ২০১৭ সালের ২৫ জুন হরিয়ানার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে জিতে নিয়েছিলেন ‘মিস ইন্ডিয়ার’ খেতাব। এবার বিশ্ব সুন্দরী ২০১৭ সালের মুকুট জিতে নিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছরের খরা কাটালেন মানুষী।

বেস্ট বায়োস্কোপ বিনোদন
১৯ নভেম্বর ২০১৭

Comments

comments

Leave a Reply

0 Shares
Share via
%d bloggers like this: