অবশেষে জয়ের দেখা পেল রংপুর, টানা ৫ম জয়ে শীর্ষে কুমিল্লা

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: টানা তিন ম্যাচ হারের পর অবশেষে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পঞ্চম আসরে দ্বিতীয় জয়ের মুখ দেখলো রংপুর রাইডার্স। আর প্রথম ম্যাচ হারের পর টানা পঞ্চম মাচ জিতলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ সিলেট সিক্সার্সকে ৭ রানে হারিয়েছে মাশরাফির রংপুর। ৫ ম্যাচে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চমস্থানে উঠলো রংপুর। আর ৮ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থস্থানে থাকলো সিলেট।  আর প্রথম ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটকে ৪ উইকেটে হারায় কুমিল্লা।৬ খেলায় ১০ পয়েন্ট নিয়ে ঢাকাকে সরিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠলো কুমিল্লা। আর ৭ খেলায় ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে নেমে গেল ঢাকা।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেন সিলেটের অধিনায়ক নাসির হোসেন। প্রথম ব্যাট হাতে নামার সুযোগটা ভালোভাবে কাজে লাগান টি-২০ ক্রিকেটের ভয়ংকর দুই ব্যাটসম্যান ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল ও নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। এবারের বিপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও আজ ২২ গজে সিলেটের বোলারদের বিপক্ষে ঝড় তুলেন গেইল-ম্যাককালাম। উদ্বোধণী জুটিতে ৫২ বলে ৮০ রান যোগ করেন গেইল-ম্যাককালাম।

নাসিরের পরিকল্পিত বোলিং-এর সামনে শুরু থেকে গেইল নিজেকে মেলে ধরতে না পারলেও নিজের মুখোমুখি হওয়া প্রথম ১২ বল থেকে ১৮ রান তুলে নেন ম্যাককালাম। এসময় গেইলর রান ছিলো ১৩ বলে ১ রান। নিজের ১৪তম বলে ছক্কা হাকিয়ে তেতে উঠেন গেইল। এরপর ৫টি ছক্কা হাকিয়েছেন তিনি। ২১ বলে ৩টি করে চার-ছক্কায় ৩৩ রান করে ম্যাককালাম ফিরে গেলেও, ৩৮ বলে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন গেইল। অর্ধশতক পুর্ন হওয়ার পরের ডেলিভারিতেই থেমে যান গেইল। তার ইনিংসে ২টি চারও ছিলো।

১০ দশমিক ৪ ওভারে ৮৮ রানে গেইল আউট হবার পর রংপুরের রানের গতি থমকে যায়। তারপরও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের রবি বোপারার ১২ বলে ২৮, মোহাম্মদ মিথুনের ২১ বলে ২৫ ও শ্রীলংকার থিসারা পেরেরা ১২ বলে ১৫ রানের সুবাদে ১৬৯ রানের সংগ্রহ পায় রংপুর। সিলেটের আবুল হাসান ২টি উইকেট নেন।

১৭০ রানের জয়ের লক্ষ্যটা শুরুতে কঠিন হয়ে গিয়েছিলো সিলেটের। কারন ৪ ওভারে ২৫ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। ৮ রান করা শ্রীলংকার দানুষ্কা গুনাথিলাকাকে সোহাগ গাজী, ২ রান করা পাকিস্তানের বাবর আজমকে মাশরাফি বিন মর্তুজা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে ফ্লেচারকে ১২ রানে থামিয়ে দেন রুবেল হোসেন।

দ্রুতই ৩ উইকেট হারানোর পর পরিস্থিতি বুঝে খেলার চেষ্টা করেন সিলেটের অধিনায়ক নাসির হোসেন ও সাব্বির রহমান। ঠান্ডা মাথায় ঝুঁিক না নিয়ে স্কোর বোর্ডে রান জড়ো করছিলেন তারা। রান তোলায় পারদর্শীতা দেখিয়েছেন সাব্বির। আপার কাট-প্যাডেল সুইপে বাউন্ডারি-ওভার বাউন্ডারি তুলে নেন সাব্বির। এতে লাইন-লেন্থহীন হয়ে পড়েন রংপুরের বোলাররা। পাশাপাশি কুয়াশায় বল ভিজে যাওয়ায় ঠিকমত গ্রিপ করতে না পারার সমস্যাতেও ভুগেছে রংপুরের বোলাররা। এই সুযোগে বেশ সহজে রান তুলে ভালোভাবেই ম্যাচের লাগাম নিয়ে নেয় সিলেট।

সাব্বিরের হাফ-সেঞ্চুরির সাথে নাসিরের বুদ্ধিদীপ্ত ইনিংসে ১৬ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ১৩৫ রানে পৌছে সিলেট। তাই শেষ ২৪ বলে ৩৫ রান দরকার পড়ে সিলেটের। তবে ম্যাচের ১৭তম ওভারে মাত্র ২ রান দিয়ে রংপুরকে খেলায় ফেরান মাশরাফি। পুরো ম্যাচে তার বোলিং ফিগার ৪ ওভার ১৮ রান ১ উইকেট।

অধিনায়কের ঐ ওভারে উজ্জীবিত হয়ে উঠে রংপুরের বোলাররা। তাই পরের ওভারেই সাব্বির-নাসিরের জুটিতে ভাঙ্গন ধরান শ্রীলংকার পেরেরা। ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪৯ বলে ৭০ রান করেন সাব্বির। চতুর্থ উইকেটে নাসিরের সাথে ৮২ বলে ১১৭ রান যোগ করেন সাব্বির।

নাসির-সাব্বিরের দুর্দান্ত জুটির পরও জয় বঞ্চিত হয় সিলেট। কারন মাশরাফির করা শেষ ওভারের পর থেকেই বদলে যায় রংপুরের ভাগ্য। শেষ তিন ওভারে পেরেরা-রুবেল ২৫ রান দিয়ে সিলেটকে ৪ উইকেটে ১৬২ রানের মধ্যে আটকে রাখেন। ১টি করে চার ও ছক্কায় ৪৩ বলে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন নাসির। ম্যাচের সেরা হয়েছেন রংপুরের গেইল।

এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচে হাসানের বিধ্বংসী বোলিং আর মালিকের দায়িত্বশীল ব্যাটিং জেতায় কুমিল্লাকে।প্রথমে বল হাতে হাসান আলীর ৫ উইকেট এবং পরবর্তীতে শোয়েব মালিকের দায়িত্বশীল ৫৩ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের কল্যাণে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটকে ৪ উইকেটে হারায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেন ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। প্রায় প্রত্যেক ম্যাচেই উড়ন্ত সূচনা করা ঢাকা এবার শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে যায়। কুমিল্লার পাকিস্তানি খেলোয়াড় হাসান আলীর বোলিং তোপে ১২ রানের মধ্যে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান মারকুটে ওপেনার ওয়েস্ট ইন্ডিজের এভিন লুইস ও গত আসরে দুর্দান্ত ব্যাটিং করার মেহেদি মারুফ। লুইস ৭ রান করলেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে মেহেদিকে।

এরপর ৯২ রানের জুটি গড়েন আরেক ওপেনার সুনীল নারাইন ও শ্রীলংকার সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা। নারাইনের বিধ্বংসী ব্যাটিং-এ এই জুটিতে বড় রান জড়ো হয়। মাত্র ৩০ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন নারাইন। অপর প্রান্তে মাত্র ২৮ রান করতে পারেন সাঙ্গা।

সাঙ্গাকারা বিদায়ের পর ঢাকার আর কোন ব্যাটসম্যানই দু’অংকের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। কারন হাসানের পেস তোপে দিশেহারা হয়ে পড়েন ঢাকার ব্যাটসম্যানরা। মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ সাদ্দাম ও শেষ ব্যাটসম্যান আবু হায়দারকে তুলে নিয়ে টি-২০ ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত ৫ উইকেট নেন হাসান। শেষ পর্যন্ত তার বোলিং ফিগার ছিলো ৩ দশমিক ৩ ওভারে ২০ রানে ৫ উইকেট। ৫ ব্যাটসম্যানকেই বোল্ড আউট করেছেন হাসান।

হাসানের বিধ্বংসী বোলিং-এ ১২৮ রানেই গুটিয়ে যায় ঢাকা। নারাইনের কল্যাণে এই স্কোর পর্যন্ত আসতে সমর্থ হয় ঢাকা। ৪৫ বল মোকাবেলা করে ৭টি চার ও ৫টি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন নারাইন।

জয়ের জন্য ১২৯ রানের মামুলি লক্ষ্যে খেলতে নেমে ঢাকার পাকিস্তানী পেসার মোহাম্মদ আমিরের প্রথম দু’বলেই দু’টি বাউন্ডারি তুলে নেন কুমিল্লার অধিনায়ক তামিম ইকবাল। দলনেতার ব্যাটিং দেখে উৎসাহি হতে পারেননি আরেক ওপেনার লিটন কুমার দাস। পরের ওভারেই শূন্য রানে ফিরেন তিনি।

সতীর্থকে হারিয়ে নিজেকে দমিয়ে রাখেননি তামিম। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে নারাইনের প্রথম বলে উইকেট ছেড়ে লং-অন দিয়ে ছক্কা হাঁকান তামিম। কিন্তু পরের বলে একইভাবে মারতে গিয়ে স্টাম্পড আউট হওয়ার আগে করেন ১৮ রান ।

এরপর ইমরুল ও পাকিস্তানের শোয়েব মালিক দলের হাল ধরেন। কিন্তু জুটিতে ৩৫ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি। ব্যক্তিগত ২০ রানে ইমরুল বিদায় নেবার পর এক প্রান্ত আগলে লড়াই করেন মালিক। তাকে যোগ্যভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যারেন ব্রাভো, ইংল্যান্ডের জশ বাটলার ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। কিন্তু তারপরও নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস ছিলো অভিজ্ঞ মালিকের। সেই আত্মবিশ্বাসেই ২ বল বাকী থাকতেই কুমিল্লাকে দুর্দান্ত এক জয় এনে দেন মালিক। ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৩ বলে দায়িত্বশীল ৫৪ রান করেন মালিক। তার সাথে মেহেদি হাসান ৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। ঢাকার পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির ও নারাইন।

বেস্ট বায়োস্কোপ স্পোর্টস
২০ নভেম্বর ২০১৭

Comments

comments

Leave a Reply

0 Shares
Share via
%d bloggers like this: