বোলিং নৈপুণ্যে রংপুরের জয়, আরিফুল জেতালেন খুলনাকে

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: বোলারদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টিতেরোমাঞ্চকর এক জয়ের স্বাদ পেলেঅ রংপুর রাইডার্স। টুর্নামেন্টের ২৪তম ম্যাচে রংপুর মাত্র ৩ রানে হারিয়ে দিয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইসকে। আর ৮ নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ১৯ বলে অপরাজিত ৪৩ রান করে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে খুলনা টাইটান্সকে জয় এনে দেন ব্যাটসম্যান আরিফুল হক।

৬ খেলায় ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চমস্থানেই থাকলো মাশরাফির রংপুর। ৭ খেলায় ৪ জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে পিছিয়ে থেকে টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠলো খুলনা। সমানসংখ্যক ম্যাচে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে পিছিয়ে থেকে ষষ্ঠস্থানে থাকলো রাজশাহী। আর ৮ খেলায় ৪ জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানেই থাকলো সাকিবের ঢাকা।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং-এ নেমে গেইল ঝড়ে শুরুটা ভালোই করেছিলেন রংপুর। উদ্বোধনী জুটিতে ২৫ বলে ৩৬ রান পায় রংপুর। দলের বিদেশি খেলোয়াড় নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ৮ বলে মাত্র ৬ রানে ফিরলেও, টানা দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৫১ রানে থামেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল। ৭ রানে জীবন পাওয়া গেইলের ২৮ বলের ইনিংসে ছিলো ৫টি চার ও ৪টি ছক্কা।

গেইল ফিরে যাবার সময় দলের রান রেট ছিলো ১০-এর কিছুটা বেশি। কিন্তু পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে না পারায় ১ বল বাকী থাকতে ১৪২ রানেই গুটিয়ে যায় রংপুর। মোহাম্মদ মিথুন ২২, মাশরাফি বিন মর্তুজা ১১ বলে ১৫ ও শ্রীলংকার থিসারা পেরেরা ৯ বলে ১৫ রান করেন। ঢাকার পক্ষে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ১৬ রানে ৫ উইকেট নেন। ইনিংসে শেষ ওভারে ৩ উইকেট নেন তিনি।

জয়ের জন্য ১৪৩ রানের টার্গেট ব্যাটসম্যানদের ছোট ছোট ইনিংসে জয়ের পথেই ছিলো ঢাকা। কারন জহিরুল ইসলামের ১৯ বলে ২৯, ওয়েস্ট ইন্ডিজের এভিন লুইসের ২৫ বলে ২৮, পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদির ১৫ বলে ২১, মেহেদি মারুফের ১৫ ও সাকিবের ১১ রানে ম্যাচে ভালোভাবেই টিকে ছিলো ঢাকা। কিন্তু শেষদিকে রংপুরের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে ১৩৯ রানেই গুটিয়ে যায় ঢাকা। রংপুরের পক্ষে মাশরাফি, সোহাগ, রুবেল ও পেরেরা ২টি করে উইকেট নেন।

অপর ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং-এ নেমে ৬ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারায় রাজশাহী। ওপেনার মোমিনুল হক ৫ ও ইংল্যান্ডের ড্যানিয়েল বেল ডারমন্ড শুন্য রানে আউট হন। এমন অবস্থায় খুলনার বোলারদের উপর পাল্টা আক্রমণ চালান ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্মিথ। তার মারমুখী ব্যাটিং শুরুর পর আবারো উইকেট হারাতে হয় রাজশাহীকে। শুন্য রানে সাজ ঘরে ফেরেন চার নম্বরে নামা জাকির হাসানও। শ্রীলংকার সেক্কুজে প্রসন্নর অসাধারন ক্যাচে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় জাকিরকে। দলীয় ২১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন স্মিথ ও উইকেটরক্ষক মুশফিকুর। ৪৩ বল মোকাবেলা করে ৭৬ রান যোগ করেন তারা। তাদের ঝড়ো ইনিংসে ১০ ওভার শেষে রাজশাহীর স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৯৭ রান।

২৯ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করা স্মিথ থেমে যান ৬২ রানে। তার ৩৬ বলের ইনিংসে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কা ছিলো। স্মিথ ফিরলেও রাজশাহীর রানের চাকা সচল ছিলো মুশফিকুরের কল্যাণে। এবারের আসরে প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৫৫ রানে আউট হন মুশি। ৩৩ বল মোকাবেলা করে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান মুশফিক। ১৬তম ওভারে মুশফিকুরের বিদায়ের পর নিউজিল্যান্ডের জেমস ফ্রাঙ্কলিনের ২৭ বলে অপরাজিত ২৯ রানের কল্যাণে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৬ রান করে রাজশাহী। খুলনার পক্ষে পাকিস্তানের জুনায়েদ খান ২৭ রানে ৪ উইকেট নেন।

জয়ের জন্য ১৬৭ রানের পেছনে ছুটতে গিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় খুলনা। ১৩ রানে ২ উইকেট হারানোর ধাক্কাটা পরবর্তীতে সামলে উঠেন দক্ষিণ রিলি রোসৌ ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দলকে ভালো অবস্থায় নেয়ার চেষ্টায় সফলই হন তারা। তৃতীয় উইকেটে ৬৭ রানের জুটি গড়েন রোসৌ ও রিয়াদ।

জুটিতে সবেচেয়ে বেশি রান ছিলো রিয়াদের। রোসৌর অবদান ছিলো ২০ রান। হাফ-সেঞ্চুরির পর রিয়াদ নিজের ইনিংসটা বড় করতে পারেননি। ১৪তম ওভারের তৃতীয় বলে দলীয় ১০৭ রানে বিদায় নেন রিয়াদ। হোসেন আলীর শিকারে পরিনত হওয়ার আগে ৪৪ বল মোকাবেলায় ৮টি চার এবং একটি ছক্কায় ৫৬ রান করেন তিনি। অধিনায়ক আউট হওয়ার পর আরও ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হারের নিশ্চিতই করে ফেলেছিলো খুলনা। কারন শেষ ৩ ওভারে জয়ের জন্য খুলনার প্রয়োজন পড়ে ৩৬ রান। হাতে ছিলো ৩ উইকেট। এই অবস্থায় হয়তো খুলনা নিজেও স্বপ্ন দেখেনি ম্যাচ জয়ের।

কিন্তু জয়ের আত্মবিশ্বাস মনের মধ্যে পুষেছিলেন রংপুরের ছেলে আরিফুল। তাই ১৮তম ওভারে রাজশাহীর হোসেন আলীর ওভার থেকে ১৮ রান তুলে নেন তিনি। পাকিস্তানের মোহাম্মদ সামির পরের ওভার থেকে ৯ রান নিয়ে শেষ ওভারে জয়ের জন্য খুলনার টার্গেট দাঁড় করান ৯ রান।

শেষ ওভারে স্মিথের প্রথম বলে ছক্কা ও দ্বিতীয়টিতে বাউন্ডারি তুলে নিয়ে ৪ বল হাতে রেখেই খুলনাকে দুর্দান্ত এক জয় এনে দেন ২৫ বছর বয়সী আরিফুল। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৯ বলে অপরাজিত ৪৩ রান করেন আরিফুল। রাজশাহীর সামি ৩ উইকেট নেন।

বেস্ট বায়োস্কোপ স্পোর্টস
২২ নভেম্বর ২০১৭

Comments

comments

Leave a Reply

0 Shares
Share via
%d bloggers like this: