রাজশাহীকে হারিয়ে শীর্ষে খুলনা, লুইসের ব্যাটিং নৈপুণ্যে ঢাকার জয়

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: ব্যাটসম্যানদের মারমুখী ব্যাটিং-এর পর পেসার শফিউল ইসলামের ৫ উইকেট শিকারে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রাজশাহী কিংসকে ৬৮ রানে হারিয়েছে খুলনা টাইটান্স। এই জয়ে আবারো এককভাবে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠলো খুলনা। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান এভিন লুইসের ৩১ বলে ৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে চিটাগং ভাইকিংসকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। টানা দু’ম্যাচ হারের পর জয়ের দেখা পেল ঢাকা।

৯ খেলায় ৬ জয়ে ১৩ পয়েন্ট খুলনার। ১১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়স্থানে নেমে গেলো ঢাকা ডায়নামাইটস। সমানসংখ্যক ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ষষ্ঠস্থানেই থাকলো গতবারের রানার-আপ রাজশাহী।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে খুলনা টাইটান্সকে ব্যাটিং-এর আমন্ত্রণ জানায় রাজশাহী কিংস। দলীয় ২৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় খুলনা। ৬ রান করে ফিরেন দক্ষিণ আফ্রিকার রিলি রোসৌ।

এরপর রাজশাহীর বোলারদের বিপক্ষে চড়াও হন ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ও আফিফ হোসেন। দ্বিতীয় উইকেটে ২৭ বলে ৪৫ রান যোগ করেন তারা। ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩১ বলে ৪৯ রান করে থামেন শান্ত।

চার নম্বরে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ১ রান করে আউট হন তিনি। অধিনায়কের বিদায়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিকোলাস পুরানকে নিয়ে রানের চাকা দ্রুতই ঘুরিয়েছেন আফিফ। মাত্র ৪৩ বল মোকাবেলা ৮৮ রান যোগ করেন পুরান ও আফিফ। এতেই বড় সংগ্রহের পথ পেয়ে যায় খুলনা।

৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় ২৬ বলে ৫৭ রান করে ফিরেন পুরান। তবে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন আফিফ। ৫টি ছক্কায় ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৪ রান করেন তিনি। শেষদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রেইগ বার্থওয়েটের ৩টি করে চার ও ছক্কায় ১৪ বলে ৩৪ রানের কল্যাণে ৫ উইকেটে ২১৩ রান পায় খুলনা। এবারের আসরে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। রাজশাহীর নিউজিল্যান্ডের জেমস ফ্রাঙ্কলিন ৩ উইকেট নেন।

২১৪ রানের বড় টার্গেটে যেভাবে শুরু উচিত ছিলো রাজশাহীর, সেভাবে করতে পারেনি তারা। ১৩ রানের মধ্যেই রাজশাহীর দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন খুলনার পেসার শফিউল। এরপর খেলায় ফেরার চেষ্টা করেছিলো রাজশাহী। কিন্তু খুলনার বোলারদের সামনে দাড়াতেই পারেনি তারা। ফলে ১ ওভার বাকি থাকতেই ১৪৫ রানে গুটিয়ে যায় রাজশাহী। দলের পক্ষে রনি তালুকদার ৩৬, মিরাজ ২৯ ও জাকির হোসেন ১৯ রান করেন।

শুরুতেই ২ উইকেট নেয়ার পর পরবর্তীতে আরও ৩ উইকেট নেন শফিউল। ম্যাচ শেষে তার বোলিং ফিগার ছিলো ৪ ওভার ২৬ রান ৫ উইকেট। টি-২০ ক্যারিয়ারে ও বিপিএলে প্রথমবারের মত ৫ উইকেট নিলেন শফিউল। ম্যাচের সেরা হয়েছেন খুলনা টাইটান্সের পুরান।

এদিকে দিনের প্রথম ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট হাতে নামে চিটাগং। দলীয় ১৭ রানে ব্যক্তিগত ১ রানে ফিরে যান ওপেনার সৌম্য সরকার। এরপর ঢাকার বোলারদের উপর চড়াও হন অধিনায়ক নিউজিল্যান্ডের লুক রঞ্চি ও আনামুল হক। তৃতীয় উইকেটে ৬৫ বলে ১০৭ রান যোগ করেন রঞ্চি ও আনামুল। শতরানের জুটি গড়ার পথে রঞ্চি ও আনামুল হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়েছেন।

৪টি করে চার ও ছক্কায় ৪০ বলে ৫৯ রান করেন রঞ্চি। ৪৭ বলে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন আনামুল। তার ইনিংসে ৩টি চার ও ৬টি ছক্কা ছিলো।

রঞ্চি ও আনামুলের বিদায়ের পর শেষদিকে জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজার ১১ বলে অপরাজিত ২৬ ও আফগানিস্তানের নাজিবুল্লাহ জাদরানের ১০ বলে ১৬ রানের সুবাদে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৭ রান করে চিটাগং। ঢাকার পক্ষে ১টি করে উইকেট নেন সাকিব, নারাইন, আবু হায়দার ও শহিদ।

জয়ের জন্য ১৮৮ রানের লক্ষ্যটা সহজ করে ফেলেন ঢাকার ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড় লুইস। উইকেটের চারপাশে চার-ছক্কার বন্যায় দিশেহারা করে ফেলেন চিটাগং-এর বোলারদের। ২৪তম বলেই হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩টি চার ও ৯টি ছক্কায় ৩১ বলে ৭৫ রান করে আউট হন ম্যাচ সেরা লুইস।

লুইসের বিদায়ের পর ইংল্যান্ডের জো ডেনলির ৪৪, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যামেরন ডেলপোর্টের ২৪ বলে অপরাজিত ৪৩ ও সাকিবের অপরাজিত ২২ রানে ৭ বল বাকী রেখেই জয়ের স্বাদ নেয় ঢাকা।

বেস্ট বায়োস্কোপ স্পোর্টস
২৭ নভেম্বর ২০১৭

Comments

comments

Leave a Reply

0 Shares
Share via
%d bloggers like this: