ঢাকাকে হারিয়ে শেষ চারে কুমিল্লা, স্বপ্ন শেষ চিটাগংয়ের

 বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা:  বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টিতে শেষ চার নিশ্চিত করলো তৃতীয় আসরের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। চট্টগ্রাম পর্বের শেষ ও টুর্নামেন্টের ৩৪তম ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটসকে ১২ রানে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। অন্য ম্যাচে রাজশাহী কিংসের কাছে ৩৩ রানে হেরে শেষ চারের খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল চিটাগং ভাইকিংসের। আর এমন জয়ে শেষ চারে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলো গতবারের রানার-আপ রাজশাহী।

শেষ চার নিশ্চিতের পাশাপাশি ৯ খেলা শেষে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠলো তামিমের কুমিল্লা। আর ১০ খেলায় ৫ জয়ে ১১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয়স্থানে থাকলো সাকিবের ঢাকা। তবে এখনো শেষ চার নিশ্চিত হয়নি ঢাকার।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয় ঢাকা ডায়নামাইটস। প্রথমে ব্যাটিং করার সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন কুমিল্লার দুই ওপেনার অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও লিটন কুমার দাস। ৪৪ বল মোকাবেলায় ৬০ রান যোগ করেন তারা। ব্যক্তিগত ৩৭ রানে তামিম ফিরে যাওয়ায় প্রথম উইকেট হারায় কুমিল্লা। তার ২৩ বলের ইনিংসে ৫টি চার ছিলো।

এরপর ইমরুল কায়েসকে নিয়ে ইনিংস মেরামত করেন লিটন। ভালোই এগোচ্ছিলেন তারা। কিন্তু তাদের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান তামিমকে শিকার করা ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল-হাসান। ৩৪ রানে থাকা লিটনকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান সাকিব। ৩টি চারে ৩০ বল মোকাবেলায় নিজের ইনিংস সাজান লিটন।

লিটনের পর বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি ইমরুলও। ২৬ রান করে বিদায় নেন তিনি। ১১৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারলন স্যামুয়েলসের ২৭ বলে ৩৯, পাকিস্তানের শোয়েব মালিকের ৪ বলে অপরাজিত ৯ ও হাসান আলীর ২ বলে ৮ রানের কল্যাণে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৭ রানের সংগ্রহ হয় পায় কুমিল্লা। স্যামুয়েলসের ইনিংসে ৫টি চার ও ২টি ছক্কা ছিলো। ঢাকার ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেভন কুপার ৩টি ও সাকিব ২টি উইকেট নেন।

জয়ের জন্য ১৬৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ঢাকার উপরের সারির চার ব্যাটসম্যান দু’অংকে পৌঁছানোর আগেই বিদায় নেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই খেলোয়াড় এভিন লুইস ৬ ও সুনীল নারাইন ৫ এবং সাদমান ইসলাম ৯, অধিনায়ক সাকিব আল-হাসান ৭ রান করে ফিরেন।

অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার মাঝেও, এক প্রান্ত আগলে ব্যাট হাতে লড়াই করেছেন ওপেনার ইংল্যান্ডের জো ডেনলি। হাফ-সেঞ্চুরির দোড়গোড়ায় পৌছে ৪৯ রানে থেমে যান তিনি। ৬টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন ডেনলি। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ড ২৭ এবং মোসাদ্দেক হোসেন ও জহিরুল ইসলাম ১৭ রান করে ফিরলে ঢাকার হার নিশ্চিত হয়ে যায়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৪ রান করতে পারে ঢাকা। চিটাগং-এর পক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়াইন ব্রাভো ৩টি ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ২টি উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন ব্রাভো।

দিনের প্রথম ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে রাজশাহী। দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে ওপেনার মোমিনুল হককে হারায় তারা। ৭ রান করে পেসার তাসকিন আহমেদের বলে আউট হন মমিনুল।

শুরুর ধাক্কা ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন ইংল্যান্ডের লুক রাইট ও জাকির হোসেন। তাদের ৩১ রানের জুটি দলকে ৪১ রানে পৌঁছে দেয়। ভালো শুরু করেও ১১ বলে ১৭ রান করে থামেন জাকির। এরপর মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে দলের রানের চাকা সচল রাখেন রাইট। কিন্তু দলীয় ৬৩ রানে থামতে হয় রাইটকে। ২১ বলে ২৫ রান করেন তিনি। কিছুক্ষণ পর বিদায় নেন মুশিও। ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ২২ বলে ৩১ রান করতে পারেন তিনি।

দলীয় ৮৬ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিকুরকে হারানোর পর উইকেটে আসেন অধিনায়ক ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যারেন স্যামি। যথারীতি এবারও মারমুখী মেজাজে তিনি। ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ২৫ বলে ৪০ রান করেন স্যামি। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের জেমস ফ্রাঙ্কলিনের ৩০ বলে ৩০ রানের সুবাদে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৭ রান করে রাজশাহী। চিটাগং-এর ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় লুইস রিসি ৩ উইকেট নেন।

জয়ের জন্য ১৫৮ রানের টার্গেটে এবারও উড়ন্ত সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন চিটাগং-এর অধিনায়ক নিউজিল্যান্ডের লুক রঞ্চি। ইনিংসের প্রথম তিন বল থেকে ৫টি অতিরিক্ত রানের সাথে দু’টি বাউন্ডারিতে ১৩ রান তুলে নেন রঞ্চি। কিন্তু চতুর্থ ডেলিভারিতেই বিদায় নেন তিনি। ৪ বলে ৮ রান করেন রঞ্চি।

এরপর ৩৮ রানের জুটি গড়ে দলকে খেলায় ফেরান আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার ও আনামুক হক। এরমধ্যে ১৩ রান অবদান রেখে আউট হন সৌম্য। বেশিদূর যেতে পারেননি আনামুলও। ২৩ রান করেন তিনি। অবশ্য চিটাগং-এর পরের দিকের কোন ব্যাটসম্যানই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তাই ১২৪ রানেই গুটিয়ে যায় চিটাগং ভাইকিংস।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যান জাইল। এছাড়া জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা ১৭ ও তানবীর হায়দার ১৩ রান করেন। রাজশাহীর বাঁ-হাতি পেসার কাজী অনিক ৪টি উইকেট নেন। টি-২০ ফরম্যাটে এটিই তার প্রথম ম্যাচ। ম্যাচ সেরা হয়েছেন রাজশাহীর স্যামি।

এই জয়ে ১০ খেলায় ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চমস্থানে উঠে এলো রাজশাহী। আর ১০ খেলায় ২ জয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে চিটাগং।

বেস্ট বায়োস্কোপ স্পোর্টস
২৯ নভেম্বর ২০১৭

Comments

comments

Leave a Reply

0 Shares
Share via
%d bloggers like this: