ঢাকার কাছে রাজশাহী হার, কঠিন করে জিতলো কুমিল্লা

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টিতে রাজশাহী কিংসকে ৯৯ রানে হারিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। অন্য ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে তৃতীয় আসরের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের জন্য ২০৬ রানের বিশাল লক্ষ্যে খেলতে নেমে সাকিব আল হাসানের বোলিং তোপে মাত্র ১০৬ রানেই গুটিয়ে যায় মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন রাজশাহী। নিজের প্রথম ওভারেই লেন্ডন সিমন্স ও লুক রাইটকে আউট করেন সাকিব। সিমন্স ১ রান করতে পারলেও রাইট রানের খাতাই খুলতে পারেননি। এরপর সাকিবের তৃতীয় শিকার হওয়া মুশফিকও কোন রান করতে পারেননি। দলীয় ৯ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে রাজশাহী। এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়তে চেষ্টা করা মোমিনুল হকও ব্যক্তিগত ১৯ রানে কাউরন পোলার্ডের শিকার হলে উত্তরবঙ্গের দলটি ৫৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে। এরপর ইংল্যান্ডের সামিত প্যাটেল দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করনে। ১৭ বল মোকাবেলায় দুটি করে বাউন্ডারি ওভার বাউন্ডারিতে ২৮ রান করে সাকিবের চতুর্থ শিকারে পরিণত হন প্যাটেল। নির্ধারিত ৪ ওভার বোলিং করে একটি মেডেনসহ ৮ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন বিশ^ সেরা এ অলরাউন্ডার। এছাড়া নুর আলম সাদ্দাম ১ ওভার বোলিং করে ৩ রানে শিকার করেন ২ উইকেট।
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনীল নারাইন ও ইংল্যান্ডের জো ডেনলি জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে পঞ্চম আসরে ঢাকায় দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব দিনের দ্বিতীয় এবং টুর্নামেন্টের ৩৬তম ম্যাচে রাজশাহীকে জয়ের জন্য ২০৬ রানের টার্গেট দেয় ঢাকা।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয় ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ব্যাটিং-এ নেমে রাজশাহীর বোলারদের উপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন ডেনলি ও নারাইন। প্রথম ৬ ওভারে ৫০ রান যোগ করেন তারা। ১৩তম ওভার পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন ছিলেন ডেনলি ও নারাইন। এসময় ঢাকার রান ছিলো বিনা উইকেটে ১২৯ রান।

১৪তম ওভারের প্রথম বলে জুটি ভাঙ্গে ডেনলি ও নারাইনের। রাজশাহীর বাঁ-হাতি পেসার কাজী অনিকের বলে আউট হন নারাইন। ২৯ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পাওয়া নারাইন ৪টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৩৪ বলে ৬৯ রান করে থামেন।

ধীরগতিতে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়েছেন ডেনলিও। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৪ বলে ৫৩ রান করেন তিনি। দুই ওপেনারের দুর্দান্ত শুরুর পর শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ডের ১৪ বলে ৩৩, পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদির ৭ বলে ১৪ ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ৬ বলে অপরাজিত ১৩ রানের সুবাদে ২০ ওভারে ৫ ওভারে ২০৫ রানের সংগ্রহ পায় ঢাকা। এবারের আসরে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মত দুইশত বা ততোধিক দলীয় সংগ্রহ দাড় করালো ঢাকা। রাজশাহীর অনিক ২টি উইকেট নেন।

এদিকে দিনের প্রথম ম্যাচে জয়ে ১০ খেলায় ৮ জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকাটা আরও পাকাপোক্ত করলো তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন কুমিল্লা। আর ১০ খেলায় ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানেই থাকলো মাশরাফির রংপুর।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট হাতে নেমে শুরুতেই মেহেদির স্পিন বিষে পড়ে রংপুর। ইনিংসের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারের প্রথম ডেলিভারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারকুটে ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইলকে শূন্য হাতে ফেরান মেহেদি। একই ওভারে আরেক ওপেনার ৬ রান করা জিয়াউর রহমানকেও সাজ ঘরে ফেরান মেহেদি।

শুরুর ধাক্কাটা পরবর্তীতে আর সামলে উঠতে পারেনি রংপুর। কোন ব্যাটসম্যানই বড় স্কোর গড়তে পারেননি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। এ ছাড়া মোহাম্মদ মিথুন ১৭ ও সোহাগ গাজী ১২ রান করেন। রংপুরের মেহেদি ২২ রানে ৪ উইকেট নেন। এ ছাড়া সাইফউদ্দিন ৩ উইকেট নেন।
জয়ের জন্য মাত্র ৯৮ রানের টার্গেট ভালোভাবে শেষ করার লক্ষ্যই ছিলো কুমিল্লার। কিন্তু ব্যক্তিগত ৩ ও দলীয় ২২ রানে আউট হন লিটন দাস। এরপর দলীয় ৩৫ রানে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে অধিনায়ক তামিম ইকবাল ফিরে যাবার পর রংপুরের বোলাররা চাপে ফেলে দেয় কুমিল্লাকে। জয়ের জন্য শেষ ৪ ওভারে ৫ উইকেট হাতে নিয়ে ২০ রান দরকার পড়ে তাদের। এরপর ১৮ ওভার শেষে জয়ের সমীকরন ১০ রানে নিয়ে আসে কুমিল্লা। ১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে কুমিল্লার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে তুলে নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন রংপুরের অধিনায়ক মাশরাফি। তবে ঐ ওভারের শেষ বলে পাকিস্তানী হাসান আলীর ছক্কায় ম্যাচ জয়ের পথ সহজ করে ফেলে কুমিল্লা। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে বাউন্ডারি মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারলন স্যামুয়েলস।

কুমিল্লার পক্ষে তামিম ২২, মালিক ২০ ও স্যামুয়েলস অপরাজিত ১৬ রান করেন। রংপুরের মাশরাফি ২৪ রানে ৩ উইকেট নেন।

বেস্ট বায়োস্কোপ স্পোর্টস
৩ ডিসেম্বর ২০১৭

Comments

comments

Leave a Reply

3 Shares
Share via
%d bloggers like this: