নাসিরের বোলিং নৈপুণ্যে সিলেটের জয়, খুলনাকে হারিয়ে শেষ চারে রংপুর

বেস্ট বায়োস্কোপ, ঢাকা: অধিনায়ক নাসির হোসেনের বিধ্বংসী ঘূর্ণিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে চিটাগং ভাইকিংসকে ১০ উইকেটে হারিয়েছে সিলেট সিক্সার্স। বিপিএল-এর ইতিহাসে এই নিয়ে তৃতীয় বার কোন দল ১০ উইকেটের ব্যবধানে ম্যাচ জিতলো। এদিকে খুলনা টাইটান্সকে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে মাশরাফির রংপুর রাইডার্স। দিনের প্রথম ম্যাচে খুলনাকে ১৯ রানে হারিয়েছে রংপুর রাইডার্স।

সিলেট পর্বে প্রথম তিন ম্যাচ জয়ের পর সাত ম্যাচ বাদে আজ টুর্নামেন্টে চতুর্থ জয়ের স্বাদ পেল নাসির-সাব্বিরের দলটি। রপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে চিটাগং ভাইকিংসকে প্রথমে ব্যাটিং-এর আমন্ত্রণ জানায় সিলেট সিক্সার্স। শুরুতেই চিটাগং ব্যাটসম্যানদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেন নাসির। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ২ উইকেট শিকার করেন তিনি। চিটাগং-এর অধিনায়ক নিউজিল্যান্ডের লুক রঞ্চি ৬ ও সৌম্য সরকার শূন্য রান করে নাসিরের শিকার হন।

এরপর আরও ৩ উইকেট নিয়ে টি-২০ ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট শিকার করেন নাসির। ইনিংস শেষে তার বোলিং ফিগার ছিলো ৪ ওভার ৩১ রান ৫ উইকেট। টুর্নামেন্ট ইতিহাসে এই নিয়ে ১১তম বারের মতো কোন বোলার ৫ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখালেন।

নাসির ছাড়াও সিলেটের পক্ষে নাবিল সামাদ ৭ রানে ৩ ও শরিফুল্লাহ ২ উইকেট নেন। ফলে ১২ ওভারে ৬৭ রানেই গুটিয়ে যায় চিটাগং। প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে দিতে টস-এর পর ৫৪ মিনিট সময় লেগেছে সিলেট বোলারদের। বিপিএল-এর ইতিহাসে চিটাগং-এর স্কোরটি যৌথভাবে চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।

চিটাগং-এর পক্ষে ব্যাট হাতে উইকেটরক্ষক ইরফান শুক্কুর ১৫, ইংল্যান্ডের লুইস রিসি ১২, দক্ষিণ আফ্রিকার স্তিয়ান ভ্যান জিল ১১ ও সানজামুল ইসলাম ৯ রান করেন।

জয়ের জন্য ৬৮ রানের টার্গেট দেখেশুনেই স্পর্শ করে ফেলেন সিলেটের দুই ওপেনার পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে ফ্লেচার। এজন্য তারা মোকাবেলা করেছেন ৬৭টি বল। ৬টি চারে ৩৩ বলে ৩৬ রান নিয়ে রিজওয়ান ও ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৪ বলে ৩২ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন ফ্লেচার। ম্যাচের সেরা হয়েছেন সিলেটের নাসির।

এই জয়ে ১১ খেলায় ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে উঠে এলো সিলেট। তাই শেষ চারের ওঠার দৌঁড়ে এখনো টিকে আছে নাসির-সাব্বিরের দলটি। সমান সংখ্যক ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে আছে চিটাগং ভাইকিংস।

দিনের অন্য ম্যাচে টুর্নামেন্টের শেষ দল হিসেবে শেষ চার খেলা নিশ্চিত করে মাশরাফির রংপুর। পাশাপাশি সিলেট-রাজশাহীর শেষ চারে খেলার আশা শেষ হয়ে গেলো। নিজেদের ১১তম ম্যাচ জিতে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থস্থানেই থাকলো রংপুর। আর সমানসংখ্যক ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে পিছিয়ে থেকে টেবিলের তৃতীয়স্থানে থাকলো খুলনা।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেন খুলনা টাইটান্সের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তৃতীয় ওভারে ১টি ছক্কায় ৯ বলে ৮ রান করে ফিরে যান রংপুরের ওপেনার জিয়াউর রহমান। এরপর দলের রানের গতি বাড়ান আরেক ওপেনার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল ও নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।
১৮ বল মোকাবেলা করে ৩২ রান যোগ করেন গেইল ও ম্যাককালাম। এরমধ্যে ১১ বলে ১৫ রান অবদান রেখে ফিরেন ম্যাক। তার ইনিংসে ২টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। কিউই ব্যাটসম্যান ফিরে যাবার পরও, রংপুরের রান এগোচ্ছিলো গেইলের ব্যাট চড়ে। কিন্তু ১১তম ওভারের প্রথম বলে গেইল ফিরে গেলে রংপুরের রান তোলায় ভাটা পড়ে। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৭ বলে ৩৮ রান করেন গেইল।

রান তোলার গতি কমে যাওয়ায় ১৮ ওভার শেষে ৬ উইকেটে রংপুরের রান ছিলো ১১৪। এ অবস্থায় উইকেটে ছিলেন মোহাম্মদ মিথুন ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। শেষ দুই ওভারে ৩৩ রান নেন তারা। ইনিংসের শেষ ওভারে খুলনার পেসার শফিউলকে তিনটি ছক্কা মারেন মিথুন।

শেষ ডেলিভারিতে তৃতীয় ছক্কাটি মেরে এবারের আসরে প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন মিথুন। শেষ পর্যন্ত ২টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৩৫ বলে অপরাজিত ৫০ রান করেন এই ডান-হাতি ব্যাটসম্যান। ২টি চারে ১১ বলে অপরাজিত ১৫ রান করেন মাশরাফি। এতে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৭ রান পায় রংপুর। খুলনার পক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোফরা আর্চার ২ উইকেট নেন।

জয়ের জন্য ১৪৮ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ক্যাচ তুলে দেন খুলনার ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত। রংপুরের স্পিনার সোহাগ গাজীর বলে আকাশে উঠে যাওয়া বল তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হন বাঁ-হাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু। জীবন পেয়ে আরেক ওপেনার অস্ট্রেলিয়ার মাইকেল ক্লিঞ্জারকে নিয়ে ৮ ওভারে ৬০ রানের জুটি গড়েন শান্ত।

শান্ত’র ক্যাচ মিস করা অপুই শেষ পর্যন্ত ফেরান খুলনার ওপেনারকে। ১৮ বলে ২০ রান করেন শান্ত। খুলনার প্রথম শিকারের পর উজ্জীবিত হয়ে উঠে রংপুরের বোলাররা। এরপর নিয়মিত বিরতি দিয়ে খুলনার একের পর এক উইকেট তুলে নেয় রংপুরের বোলাররা। ফলে ১ উইকেটে ৬০ রান থেকে ৬ উইকেটে ৯৭ রানে পরিণত হয় খুলনা। এ অবস্থায় ম্যাচের লাগাম পুরোপুরি ঢলে পড়ে রংপুরের দিকে।

কারণ শেষ ৩ ওভারে জয়ের জন্য খুলনার প্রয়োজন পড়ে ৪১। হাতে ছিলো ৪ উইকেট। ১৮তম ওভারে শ্রীলংকার বাঁ-হাতি পেসার ইসুরু উদানাকে দু’টি ছক্কায় হাকিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা তৈরি করেন খুলনার ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড় জোফরা আর্চার। তবে ঐ ওভারের শেষ বলে ভুল বুঝাবুঝিতে রান আউটের ফাঁেদ পড়ে বিদায় নেন আর্চার। ২টি ছক্কায় ১১ বলে ১৯ রান করেন আর্চার।

আর্চারের বিদায়ের পর দলের আর কোন ব্যাটসম্যান খুলনার প্রয়োজন মেটাতে না পারায় ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২৮ রানে থেমে যায় খুলনা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন ক্লিঞ্জার। রংপুরের বোপারা ২টি উইকেট নেন। ম্যাচের সেরা হয়েছেন রংপুরের মিথুন।

বেস্ট বায়োস্কোপ স্পোর্টস
৩ ডিসেম্বর ২০১৭

Comments

comments

Leave a Reply

0 Shares
Share via
%d bloggers like this: