শ্রীলংকার কাছে ৭ উইকেটে হারল ভারত

বেস্ট বায়োস্কোপ ঢাকা:  বোলারদের দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে ধর্মশালায় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিক ভারতকে ৭ উইকেটে হারালো সফরকারী শ্রীলংকা। এ ম্যাচে দেশের মাটিতে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রানে অলআউট হয় ভারত। টিম ইন্ডিয়াকে ১১২ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১৭৬ বল বাকী রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় শ্রীলংকা। এই জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল লংকানরা।

এ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেন শ্রীলংকার নয়া অধিনায়ক থিসারা পেরেরা। পিচ থেকে বাড়তি সুবিধা নিতেই এমন সিদ্বান্ত পেরেরার। বল হাতে পেয়ে বাড়তি সুবিধাই শুধু নয়, তারচেয়ে বেশি ফায়দা লুটে নেন শ্রীলংকার বোলাররা।

শ্রীলংকার পেসার সুরাঙ্গা লাকমলের সাথে বোলিং উদ্বোধন করেন সাবেক অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। ইনিংসের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারে শেষ বলে ভারতের ওপেনার শিখর ধাওয়ানের বিপক্ষে লেগ বিফোরের জোরালো আবেদন করেন ম্যাথুজ। অবশ্য তাতে সাড়া দেননি আম্পায়ার। কিন্তু রিভিউ নিয়ে শূন্য হাতে ধাওয়ানের বিদায় নিশ্চিত করে ফেলে শ্রীলংকা।

আরেক ওপেনার ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মার বিদায়ও একইভাবে নিশ্চিত করে শ্রীলংকা। লাকমলের ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন রোহিত। কিন্তু রোহিতকে নট আউট ঘোষণা করেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে আবারো সফল শ্রীলংকা। তাই ২ রানে থামেন রোহিত।

এরপর ভারতের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেন লাকমল ও নুয়ান প্রদীপ। ২ রানে ২ উইকেট পতনের পর ২৯ রানে পৌঁছাতেই ভারতের ৭ উইকেট তুলে নেন লাকমল ও প্রদীপ। ভারতের দীনেশ কার্তিককে শূন্য ও মনিষ পান্ডেকে ২ রানে শিকার করেন লাকমল। আর অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা শ্রেয়াস আইয়ারকে ৯, হার্ডিক পান্ডেকে ১০ ও ভুবেনশ্বর কুমারকে শূন্য রানে শিকার করেন প্রদীপ।

২৯ রানে ৭ উইকেট হারানোয় দ্রুতই গুটিয়ে যাওয়ার চিন্তায় পড়ে ভারত। কিন্তু সেটি হতে দেননি সাবেক অধিনায়ক ও ক্যাপ্টেন কুল মহেন্দ্র সিং ধোনি। বাঁ-হাতি স্পিনার কুলদীপ যাদবকে নিয়ে খাদের কিনারায় পড়ে যাওয়া ভারতের পালে রান দেয়ার চেষ্টা করেন ধোনি। অষ্টম উইকেটে জুটি বেধে স্কোর বোর্ডে রান জড়ো করছিলেন ধোনি ও কুলদীপ। তবে এই জুটিতে ৪১ রান যোগ হবার পর তাদের বিচ্ছিন্ন করেন শ্রীলংকার অফ-স্পিনার আকিলা ধনানঞ্জয়া। ১৯ রানে থাকা কুলদীপকে শিকার বানান তিনি।

কুলদীপকে হারিয়েও দমে যাননি ধোনি। এক প্রান্তে আগলে লড়াই চালিয়ে যান তিনি। সিঙ্গেল নেয়ার সুযোগ থাকলেও, নন-স্ট্রাইকের ব্যাটসম্যানদের খেলার সুযোগ দেননি ধোনি। তবে সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি মেরেছেন ধোনি। তাই ভারতের রানও অতিক্রম করে তিন অংকের কোটা। ততক্ষণে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৬৭তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন ধোনি।

শেষ পর্যন্ত ভারতের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন ধোনি। তখন ভারতের রান ১১২। দেশের মাটিতে এটি ভারতের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর। সর্বনিম্ন রানও শ্রীলংকার বিপক্ষে করেছিলো ভারত। ১৯৮৬ সালে কানপুরে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৭৮ রানে গুটিয়ে গিয়েছিলো টিম ইন্ডিয়া।

১০টি চার ও ২টি ছক্কায় ৮৭ বলে ৬৫ রান করেন ধোনি। শ্রীলংকার লাকমল ১৩ রানে ৪ উইকেট নেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটিই তার ম্যাচ সেরা বোলিং ফিগার।

জয়ের জন্য ১১৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় শ্রীলংকাও। ওপেনার দানুষ্কা গুনাথিলাকা ১ ও লাহিরু থিরিমান্নে শুন্য রানে ফিরেন। তবে সাবেক দুই অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা-ম্যাথুজ ও উইকেটরক্ষক নিরোশান ডিকবেলার ব্যাটিং দৃঢ়তায় ২১তম ওভারের চতুর্থ বলেই জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে শ্রীলংকা। ম্যাচের সেরা হয়েছেন লাকমল।  মোহালিতে আগামী ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে।

বেস্ট বায়োস্কোপ স্পোর্টস
১০ ডিসেম্বর ২০১৭

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: